আমরা কারো কাছে হাত পেতে চলি না: প্রধানমন্ত্রী

606

মিরর বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আজকের বাংলাদেশকে এখন আর কেউ অবহেলার চোখে দেখতে পারে না। কারণ আমরা কারও কাছে হাত পেতে চলি না। বাজেট সাতগুণ বৃদ্ধি করেছি। আমাদের দেশকে কেউ অবহেলার চোখে দেখবে, এটা আমার পক্ষে কখনো মেনে নেওয়া সম্ভব না।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ, এনএসটি ফেলোশিপ এবং বিশেষ গবেষণা অনুদান-২০২০ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ সব কথা বলেন।

১৫ আগস্ট জাতির পিতার নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর দেশের অগ্রযাত্রা থমকে গিয়েছিল সে প্রসঙ্গ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘৬ বছর পর যখন দেশে আসি তখন আমি দেখেছিলাম যে বাংলাদেশ স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন জাতির পিতা সে বাংলাদেশ একটু এগুতে পারেনি। কারণ তার হত্যার পর এ দেশ যাতে অগ্রসর হয় সেটি কেউ চায়নি। কারণ তখন ক্ষমতায় যারা ছিল স্বাধীনতাবিরোধী তারা। যারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল। বাঙালির বিজয়কে যারা মেনে নিতে পারেনি। সেই পরাজিত শক্তি ক্ষমতায়। তাই খুব স্বাভাবিকভাবে দেশ এগুবে কেন?’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২১ বছর পর আমরা সরকার গঠন করি। তখন থেকে আমরা সুযোগ পাই দেশের সেবা করার। তার পূর্বেই যখন আমরা বিরোধীদলে ছিলাম তখনি আমাদের অর্থনৈতিক নীতিমালা আমরা যদি কখনো ক্ষমতায় যাই কীভাবে দেশ পরিচালনা করব, কোন কোন খাতকে আমরা গুরুত্ব দেব। সেই বিবেচনায় আমরা আমাদের দলের নীতিমালা তৈরি করে রেখেছিলাম। যেকারণে আমাদের জন্য সহজ হয় কাজগুলো করা।’

প্রধানমন্ত্রী টানা মেয়াদের তার সরকারের ধারাবিহকতার ফলে দেশের আর্থ-সামাজিক অর্থনীতির অগ্রগতির প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ‘আজকের বাংলাদেশ সারাবিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছে। একসম যে বাংলাদেশের নাম শুনলে লোকে বলত বাংলাদেশ মানেই তো সেখানে দারিদ্র্য, সেখানে দুর্ভিক্ষ, সেখানে ঝড়-জলোচ্ছ্বাস, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মানুষের কোনো আশা নেই, ভরসা নেই, কিছুই নেই। এটি অবহেলার চোখে দেখতে সবাই।’

‘সেখানেই ছিল আমার সিদ্ধান্ত, আমরা মুক্তিযুদ্ধ করে বিজয় অর্জন করেছি। আমরা বিজয়ী দেশ। আমাদের দেশকে কেউ অবহেলার চোখে দেখবে, এটা আমার পক্ষে কখনো মেনে নেওয়া সম্ভব না। সে কারণেই সকল প্রচেষ্টা চালিয়েছি। দেশের আর্থ সামাজিক উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষাদীক্ষায় জ্ঞানে আধুনিক প্রযুক্তি শিক্ষায় আমাদের দেশের ছেলেমেয়েরা যেন এগিয়ে যেতে পারে এবং ভূমিকা রাখতে পারে, সেই সুযোগটা সৃষ্টি করা।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্কুলের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আজকে ছোট সোনামণিরা এখানে আছে এবং আমাদের বিজ্ঞানীরা সকলে এদেশের সোনার ছেলেমেয়ে হিসেবে দেশকে আগামীদিনে গড়ে তুলবে, সেটিই আশা করি।’

জাতির পিতার স্বপ্নটা পূরণ করার জন্যই আমরা উদ্যোগ নিয়েছি বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ ট্রাস্ট গঠন করে গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি করার জন্য বলেও জানান সরকার প্রধান শেখ হাসিনা।

২০১০-২০১১ অর্থবছর থেকে ২০১৯-২০ অর্থবছর পর্যন্ত ৫১৯ জনকে ১৫৫ কোটি ৪৫ লাখ ৫০ হাজার টাকার ফেলোশিপ দেওয়া হয়েছে। এবার ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৩ হাজার ২০০ জনকে ১৯ কোটি ৩৮ লাখ টাকার ফেলোশিপ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করে সেখান থেকেও শিক্ষার জন্য বিশেষ অনুদান দেওয়া হয় বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ, এনএসটি ফেলোশিপ এবং বিশেষ গবেষণা অনুদান প্রাপ্তদের হাতে চেক হস্তান্তর শেষে গ্রুপ ফটোসেশনে অংশ নেন।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রী ইয়াফেস ওসমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আ ফ ম রুহুল হক এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আনোয়ার হোসেন।