করোনা ঝুঁকির মধ্যে বাড়ি যেতে প্রস্তুত ৪০ লাখ গার্মেন্টস শ্রমিক

693

মিরর বাংলাদেশ : বাড়ি যাওয়ার জন্য প্রস্তুত দেশের গর্মেন্টস খাতের প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক। ইতোমধ্যে তারা ছুটিও পেয়েছেন। তবে কিভাবে তার গ্রামের বাড়ি যাবেন তার নিয়ে রয়েছে দুশ্চিন্তা। পাশাপশি রয়েয়ে করোনি নিয়ে ঝু&কি ও আতংক
জানা গেছে, দেশের বেশিরভাগ পোশাক কারখানায় শ্রমিকদের ছুটি দেওয়া হয়েছে। গতকাল শনিবার যেসব কারখানা চালু ছিল পুরেদিন তারা তাদের কাজ চালিয়ে যেতে পারেনি। সাধারণ ছুটিতে বিভিন্ন কারখানায় করোনা আতঙ্কে শ্রমিকরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। ফলে কারখানা মালিকরা ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছেন।
এদিকে, ছুটি পাওয়া শ্রমিকদের বেশিরভাগই গ্রামে ফিরে গেছেন। শনিবার যারা ছুটি পেয়েছেন তারাও গ্রামে ফেরার চেষ্টায় রয়েছেন। বেশিরভাগ শ্রমিকই বেতন ও অর্থ নিয়ে শঙ্কায় নেই। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বেতন পাওয়ার প্রতিশ্রতিও পেয়েছেন তারা।
মার্চ মাসের বেতন ৭ এপ্রিলের মধ্যে পরিশোধ করা হবে বলে জানিয়েছে পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। অপর সংগঠন বিকেএমইএ’র পক্ষ থেকেও শ্রমিকদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বেতন পরিশোধ করতে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
বিজিএমইএ’র পরিচালক রেজওয়ান সেলিম বলেন, ‘কমবেশি সব কারখানা এখন বন্ধ। যেসব কারখানা সকালে খুলেছিল, তারা কাজ চালু রাখতে পারেনি। শ্রমিকরা অনেকটা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছিল। ফলে বাধ্য হয়েই চালু থাকা কারখানাগুলো মালিকরা বন্ধ ঘোষণা করেছেন।’
তিনি বলেন, মার্চ মাসের বেতন ৭ এপ্রিলের মধ্যে দিয়ে দেওয়া হবে। বেতন নিয়ে শ্রমিকদের শঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।
শ্রম আদেশ প্রসঙ্গে অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘নতুন করে এখন আর কোনো ক্রয়াদেশ পাওয়া যাচ্ছে না। পুরোনো ক্রয়াদেশ বাতিল হচ্ছে। কিছু কিছু ফ্যাক্টরিতে এখন পর্যন্ত যে ক্রয়াদেশ রয়েছে তা দিয়ে এপ্রিল পর্যন্ত কারখানা চালু রাখা যাবে। কোনো কোনো ফ্যাক্টরিতে হয়তো এরচেয়ে বেশি সময়ে কাজ রয়েছে। একেক ফ্যাক্টরির অবস্থা একেক রকম। এতোদিন আমরা বায়ারদের বলেছি অর্ডার বাতিল না করতে। এখন কারখানা বন্ধ থাকলে অনেক মালিক হয়তো সঠিক সময়ে শিপমেন্ট করতে পারবে না। তখন বলবে এতদিন আমরা ডিলে করেছি, এখন তোমরা করছো!’
নারায়ণগঞ্জের একটি কারখানার শ্রমিক বলেন, ‘তারা গ্রামে যাওয়ার চেষ্টা করবেন। যেতে না পারলে এখানেই থেকে যাবেন। কারখানা শ্রমিকরা থাকেন এমন মেসগুলোতে এখন বুয়া নেই। ফলে শ্রমিকদের খাওয়া-দাওয়ায় কষ্ট করতে হচ্ছে।’ আপাতত তেমন অর্থের সংকট নেই বলে জানিয়েছেন এই শ্রমিক।
সাভারের একটি কারখানার শ্রমিক কবির বলেন, ‘দুই দিনের ছুটি ঘোষণা করায় আমরা ছুটি পেয়েছি। বুধবার কাজ শেষ করেই বাড়ি ফিরে এসেছি। বেশিরভাগই গ্রামে চলে এসেছেন। তবে অনেকে সাভারে রয়ে গেছেন।’
কাচপুর একটি কারখানার শ্রমিক কুদ্দুস বলেন, ‘দুইদিনের ছুটি পেয়ে আমরা বাসায় ছিলাম। পরে আবার ছুটি বাড়ানো হয়েছে। সবাইকে ফোনে ফোনে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে সকালে কারখানায় গিয়ে অনেক শ্রমিক ফিরে এসেছেন। বেশিরভাগ শ্রমিকরা গ্রামে ফিরে গেছে বলে জানালেন এই শ্রমিকও।’
এদিকে, শ্রমিকদের সুরক্ষায় পোশাক কারখানা বন্ধ রাখার আহ্বান জানান বিজিএমইএ সভাপতি রুবানা হক। বৃহস্পতিবার রাতে এক বার্তায় কারখানা মালিকদের এ অনুরোধ জানান তিনি। আর করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে ও কারখানার শ্রমিকদের নিরাপত্তায় ৪ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের নিট পোশাক কারখানা বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে নিটওয়্যার ব্যবসায়ীদের সংগঠন বিকেএমইএ।
শুক্রবার দুপুরে বিকেএমইএ সভাপতি সেলিম ওসমানের পাঠানো এক বিবৃতিতে ওই তথ্য জানানো হয়। তারও আগে দুই ২৬ ও ২৭ মার্চ- এই দুই দিনের ছুটি ঘোষণা করে বিকেএমইএ।
এদিকে, শনিবার খোঁজ নিয়ে জানা গেছে কোনো কোনো কারখানা ৫ এপ্রিল পর্যন্ত ও ছুটি ঘোষণা করেছে। বেশিরভাগ কারখানাতে এরইমধ্যে ছুটি হয়ে গেছে। তবে মাস্ক ও পিপিই তৈরি হচ্ছে- এমন কারখানা খোলা থাকবে। আর এ সব কারখানাকে সব ধরনের সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিজিএমইএ।
কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডিআইএফই) বলছে নির্দিষ্ট শর্তে কারখানা খোলা রাখা যাবে। কিন্তু বিকেএমই-এ তাদের আওতাভুক্ত সকল কারখানা আগামী ৪ মার্চ পর্যন্ত বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। এ নিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়েছে গার্মেন্ট মালিকরা।। বিশেষ করে কল কারখানা অধিদপ্তরের শর্ত অনুযায়ী যাদের বিদেশী অর্ডার বাতিল হয়নি বা যে সকল গার্মেন্ট করোনা সংক্রান্ত পিপি বা পোশাক সামগ্রী তৈরী করছে তা খোলা রাখতে পারবে বলে জানিয়ে দিয়েছে। কিন্তু বিকেএমই-এ তাদের সাংগঠনিক সকল গার্মেন্ট বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। দুই রকম নির্দেশনায় এ নিয়ে সচল ও বন্ধ গার্মেন্টগুলোতে দেখা দিয়েছে নানা বিভ্রান্তি।
উল্লেখ্য গতকাল শুক্রবার জরুরি প্রয়োজনে শিল্পকারখানা চালু রাখা যাবে বলে জানিয়েছে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডিআইএফই)। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও আইইডিসিআরের জারি করা স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নির্দেশিকা কঠোরভাবে পরিপালন করেই কারখানা চালাতে হবে শিল্প মালিকদের।ডিআইএফইর মহাপরিদর্শক শিবনাথ রায় শুক্রবার এই নির্দেশনায় আরো বলা হয়েছে, যেসব রপ্তানিমুখী কারখানায় ক্রয়াদেশ রয়েছে এবং করোনা প্রতিরোধে অপরিহার্য পণ্য-পারসোনাল প্রোটেকটিভ ইকুইমেন্ট (পিপিই), মাস্ক, হ্যান্ডওয়াশ বা স্যানিটাইজার, ওষুধ ইত্যাদি উৎপাদন কার্যক্রম চলছে সেসব কারখানার শিল্প মালিকেরা শ্রমিকদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে কারখানা চালু রাখতে পারবেন। তবে কারখানায় প্রবেশের পূর্বে থার্মাল স্ক্যানার ব্যবহার করে শ্রমিকদের দেহের তাপমাত্রা পরীক্ষা করা বাধ্যতামূলক।

কোনা শ্রমিকের শরীরে করোনাভাইরাসের উপসর্গ দেখা দিলে তাকে সংগনিরোধ বা কোয়ারেন্টাইন করার পাশাপাশি চিকিৎসা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে ডিআইএফই। কল কারখানার ওই চিঠিতে অধিদপ্তর আরো উল্লেখ করেছেন যে, গত ২৫ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের বেতন ভাতা প্রদানের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার প্রণোদণা প্যাকেজ ঘোষনার পাশাপাশি তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করতে সবার প্রতি আহŸান জানান। তবে প্রধানমন্ত্রী বক্তব্যে শিল্প কারখানা বন্ধের কোন নির্দেশনা ছিল না।

এদিকে শুক্রবার নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি এ কে এম সেলিম ওসমান আগামী ৪ এপ্রিল পর্যন্ত কারখানা বন্ধ রাখতে বিশেষ নির্দেশনা দেন।
গণমাধ্যমে প্রেরিত বিকেএমই-এর প্রেস বিজ্ঞপ্তিটি জানানো হয় দেশের সার্বিক পরিস্থি’তি বিশ্লেষন করে নীট সেক্টরের সকল কারখানা গুলো ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপিল পর্যন্ত বন্ধ রাখতে সকল মালিকদের প্রতি অনুরোধ রেখেছেন বিকেএমইএ এর সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান।

দেশে করোনা ভাইরাস পরিস্থি’তি নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে তিনি শিল্প মালিক, সরকারের উর্ধতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দদের সাথে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহন করার অনুরোধ করা হয়েছে।

সেই মোতাবেক বুধবার ২৫ মার্চ ঢাকায় প্লানেস টাওয়ারে বিকেএমইএ এর ঢাকার কার্যালয় থেকে বিকেএমইএ সকল সদস্য প্রতিষ্ঠান গুলোকে করোনা ভাইরাস সংক্রামন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন সহ সার্বিক বিষয় ব্যাখা এবং কারখানা গুলো বন্ধ রাখার অনুরোধ জানিয়ে একটি চিঠি প্রেরণ করা হয়েছে। নি¤েœ বিকেএমইএ কর্তৃক প্রেরিত চিঠিটি হুবুহু দেওয়া হলো

দেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমনের প্রেক্ষাপটে সৃষ্ট অচলাবস্থায় দেশ, জাতি ও মানুষের বৃহত্তর কল্যাণের স্বার্থে বাংলাদেশের প্রধানতম রপ্তানিখাত নীট শিল্পের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন বিকেএমইএ তার সদস্যভুক্ত প্রতিষ্ঠানের জন্য নি¤œলিখিত পরামর্শসমূহ অবহিত করছে:রপ্তানি কার্যাদেশ বা এ সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম না থাকলে ফ্যাক্টরি চালানোর কোনো প্রয়োজন নেই। কারণ জনসমাগম যত কম হবে, ততই করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ কমবে। তাই অপ্রয়োজনে কারখানায় শ্রমিক এনে হাজিরা নেয়ার প্রয়োজন নেই। কারণ আপনার প্রতিষ্ঠানের একজন শ্রমিক করোনা ভাইরাস-এ আক্রান্ত হলে, আপনার পুরো প্রতিষ্ঠানকে এমনকি আপনার আশে-পাশের ফ্যাক্টরিসমূহ তথা পুরো এলাকাকে লকডাউন করে দিত     সেক্ষেত্রে আমরা আরও বেশি বিপদগ্র¯’ হব। একইসাথে কারখানা ছুটিকালীন সময়ে আপনার কারখানার শ্রমিকরা যে যেখানে অব¯’ান করছে সে যেন সেখানেই অব¯’ান করে তা নিশ্চিত করতে হবে। তাদেরকে বুঝাতে হবে, এটা কোনো ঈদ বা উৎসবের ছুটি নয়। তাই যে যেখানে অব¯’ান করে, তাকে সেখানেই থাকতে হবে।
২৬শে মার্চ স্বাধীনতা দিবস সরকারি ছুটি এবং ২৭ মার্চ শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি হওয়ায়, উক্ত দুইদিন শ্রমিকদের সুবিধার্থে (বিশেষ করে তাদের বাজার, ঔষধপত্র ক্রয়, নিত্যপ্রয়োজনীয় অন্যান্য কাজের কারণে) সম্ভব হলে আপনার কারখানা বন্ধ রাখার জন্য আমরা সবিনয়ে অনুরোধ জানা”িছ।

যেহেতু সরকারের চূড়ান্ত নির্দেশনা এখনো আসেনি, সেক্ষেত্রে আপনার প্রয়োজনে বা যদি আপনি প্রয়োজন মনে করেন, আপনার সম্পূর্ণ নিজস্ব রিক্স এন্ড রেসপন্সিবিলিটিতে আপনার কারখানা খোলা রেখে পরিচালনা করতে পারেন। আমাদের বুঝতে হবে, করোনা ভাইরাস এখন মহামারী রূপধারণ করেছে। পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশে কারফিউ এবং লকডাউনের মাধ্যমে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধের চেষ্টা করা হ”েছ। যেহেতু আমাদের প্রস্তুতকৃত পণ্যটি রপ্তানিযোগ্য পণ্য এবং বাংলাদেশের মূল বৈদেশিক মুদ্রা আননয়নকারী খাত, সেহেতু আমরা এই মুহূর্তেই পুরো সেক্টর বন্ধ করা হবে কিনা, সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে পারছি না। তবে পরিস্থি’তি যেভাবে নাজুক হচ্ছে তাতে যে কোনো মুহূর্তেই বাংলাদেশেও কাউফিউ বা লকডাউন প্রয়োগ হতে পারে। ইতোমধ্যেই দেশে লঞ্চ, ট্রেন ও গণপরিবহন বন্ধ হয়ে গেছে। বিকেএমইএ সবসময় আপনাদের সাথে আছে। যদি ট্রাক চলাচল করে, শিপিং লাইন খোলা থাকে, তবে আপনাকে শিপমেন্ট করার জন্য বিকেএমইএ সবরকমের সহায়তা করবে। তবে কারখানা চলাকালীন সময়ে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের হাত থেকে শ্রমিক, কর্মকর্তা ও মালিকদের সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় স্বাস্থ’্যগত সুরক্ষার সকল নিয়ম মেনে চলতে হবে।

এমনকি আপনি ক্ষতিগ্রস্থখ না হওয়ার জন্য প্রয়োজনে ইচ্ছে হলে নীটিং, ডায়িং ক্লোজ করে সীমিতআকারে আপনার ফ্যাক্টরি পরিচালনা করতে পারেন। তবে এক্ষেত্রেও করোনা ভাইরাস থেকে মুক্ত থাকার জন্য প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
আপনার প্রতিষ্ঠানের যেকোনো সমস্যা শ্রমিকদের সাথে সরাসরি আলোচনা করে সমাধান করুন। মনে রাখতে হবে, প্রয়োজনের অতিরিক্ত কাজও আমাদেরকে বিপদগ্রস্থ’ করতে পারে। কোনো অবস্থাতেই শ্রমিকদের বেতন-ভাতাদি বন্ধ করা যাবে না। আপনার ও আমার কারণে যাতে দেশে কোনো শ্রমিক অসন্তোষ দানা না বাঁধে, সে ব্যাপারে আমাদের সজাগ থাকতে হবে। এজন্যই শ্রমিকদের বিগত বকেয়াসহ সকল পাওনাদী (যদি থাকে) ও মার্চ’২০ মাসের বেতন আপনার ব্যাংকের সাথে সমন্বয় করে সময়মত প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির অনুরোধ জানাচ্ছি। এক্ষেত্রে কোনো ব্যত্যয় ঘটানো যাবেনা; এটা সম্পূর্ণই আপনার দায়িত্ব।

এই মহামারী (করোনা ভাইরাস) নিয়ন্ত্রণে আসলে আমরা আমাদের ক্ষতির তথ্য ও পরিসংখ্যান সরকারের কাছে উপস্থাপন করব এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাবার জন্য চেষ্টা করব। তবে এই বিষয়ে এখনোই কোনো কিছু দাবি করা যুক্তিসঙ্গত ও সময়োচিত নয়। তবে করোনা ভাইরাসের কারণে কারখানার কী পরিমাণ অর্ডার বাতিল, স্থ’গিত এবং শিপমেন্ট বাতিল হয়েছে তার পাশাপাশি আপনার কারখানার মার্চ মাসের শ্রমিক/কর্মচারী/কর্মকর্তার মোট সংখ্যা এবং বেতনের পরিমান ও পানি, বিদ্যুত, গ্যাস বিল বাবদ যে খরচ দাড়ায় তা দ্রæততম সময়ের মধ্যে রধৎঃ১@নশসবধ.পড়স এ পাঠানোর জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।

ইতোমধ্যেই সরকারী ও বেসরকারি সমস্ত কার্যালয় ২৬ মার্চ’২০ থেকে ৪ঠা এপ্রিল’২০ পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। আমাদের জানা তথ্য মতে অনেক প্রতিষ্ঠানও সরকারের নির্দেশনা অনুসারে ২৬ মার্চ’২০ থেকে ৪ঠা এপ্রিল’২০ পর্যন্ত কারখানা ব ন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। তাই আপনার প্রতিষ্ঠানে যথেষ্ট কাজ না থাকলে আগামী ২৬ মার্চ’২০ থেকে ৪ঠা এপ্রিল’২০ পর্যন্ত আপনার কারখানা বন্ধ রাখাতে পারেন। তবে সেক্ষেত্রেও কারখানার শ্রমিক/কর্মকর্তার বেতন-ভাতাদি সময়মতো প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

যদি ফ্যাক্টরি ছুটি দিয়ে থাকেন সেক্ষেত্রে আপনার প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের সাথে আলোচনা করে তাদের মধ্য থেকে স্বে”ছাশ্রমে (ভলান্টিয়ার সার্ভিস) আগ্রহীদের নিয়ে টিম করে আপনার কারখানার নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন।

ছুটির পরে ফ্যাক্টরি খোলার সময় অবশ্যই শ্রমিক/কর্মকর্তাসহ সকলের মেডিক্যাল চেকআপ করে কোনো রোগ না থাকার বিষয়টি সুনিশ্চিত হয়ে তবেই তাদের (শ্রমিক/কর্মকর্তা) আপনার ফ্যাক্টরিতে প্রবেশ করান।