কাউন্সিলর দিনা ও সাংবাদিক প্রীতির সহযোগিতায় পৃথিবীর আলো দেখলো নবজাতক শিশু

242

মিরর বাংলাদেশ   : দ্বিতীয়বারের মতো ফোনে খবর পেয়েই এক মধ্যবিত্ত পরিবারের অসহায় গর্ভবতী নারীকে হাসপাতালে নিয়ে ডেলিভারি করালেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নারী কাউন্সিলর আয়শা আক্তার দিনা এবং সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী সোনিয়া দেওয়ান প্রীতি। পরে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে ঐ নারী ফুটফুটে একটি পুত্র সন্তান প্রসব করেন। মা ও নবজাতক দু’জনই বর্তমানে সুস্থ আছেন বলে জানিয়েছেন কাউন্সিলর দিনা। এসময় তিনি প্রসূতির অপারেশনে প্রায় ৭০% খরচ নিজ অর্থায়নে করেন।

এ প্রসঙ্গে কাউন্সিলর আয়শা আক্তার দিনা বলেন- ‘‘আল্লাহপাকের অশেষ মেহেরবানিতে আজ দ্বিতীয় বারের মতো আমার আর সাংবাদিক সোনিয়া দেওয়ান প্রীতি আপার প্রচেস্টায় গোদনাইল এস.ও রোডের সুফিয়া জেনারেল হাসপাতালে জন্ম নিলো আরও একটি ফুটফুটে ছেলে সন্তান। প্রীতি আপা বিকালে ফোন দিয়ে বললো তার এক পরিচিত ভাই এর স্ত্রী গর্ভবতী। শরীরের অবস্থা ভালো না। আমি সাথে সাথেই বললাম নিয়ে আসেন বাকিটা আমি দেখবো। তারপর ইফতারের পরেই প্রীতি আপা ফোন দিয়ে জানালো ভাবীর ব্যাথা শুরু হয়ে গেছে এক্ষুনি নিয়ে আসছে। আমি আর প্রীতি আপা সেই ভাবীকে নিয়ে হাসপাতালে গিয়ে ডাক্তার দেখানোর সাথে সাথেই আল্ট্রাসনোগ্রাম করে বলা হলো এক্ষুণি ডেলিভারি করাতে হবে।সাথে সাথে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়া হলো তাকে। আল্লাহপাকের রহমতে কিছুক্ষণ পরেই জন্ম নিলো একটি ফুটফুটে পুত্র সন্তান। আল্লাহপাকের রহমতে মা ও বাচ্চা দু’জনেই সুস্থ আছে।’’

এদিকে সোনিয়া দেওয়ান প্রীতি বলেন- ‘‘আসলে দীর্ঘ সময় ধরে লকডাউনের কারণে একদিকে যেমন মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষগুলো কর্মহীন হয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে, তেমনি
অন্যান্য সাধারন অসুস্থতায়ও চিকিৎসা বঞ্চিত হচ্ছে। চারদিকে করোনাভাইরাসের আতঙ্কে যেনো সব কিছু স্থবির হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আমার এক ঘণিষ্ঠ ভাই তার গর্ভবতি স্ত্রীর ডেলিভারি নিয়ে ভীষণ চিন্তিত হয়ে পড়েন। বিষয়টি আমার সাথে সব সময় শেয়ার করছিলেন। লকডাউনের কারণে দীর্ঘদিন ধরে কর্মহীন থাকায় মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্য হলেও স্ত্রীর ডেলিভারি নিয়ে বেশ চিন্তিত ছিলেন তিনি। তাছাড়া রেগুলার চিকিৎসকের ক্লিনিক তালা লাগিয়ে সেই ডাক্তার ফোন বন্ধ করে রেখেছেন বলেও জানান তিনি। বিষয়টি আমি কাউন্সিলর দিনা আপার সাথে আলোচনা করে দ্রুত সুফিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেই ভাবি সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে একটি পুত্র সন্তান প্রসব করেন। শারীরিক অবস্থা খারাপ থাকায় আমরা কোনো রিস্ক নিতে চাইনি, তাই সাথে সাথেই অপারেশন করিয়ে ফেলেছি। আমি এক্ষেত্রে কাউন্সিলর দিনা আপাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই যে এই মহামারীর সময়েও তিনি স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে জান-জীবন এবং অর্থ দিয়ে অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন, অথচ অনেক জনপ্রতিনিধিরো যেখানে সামাজিক দুরত্ব মেনে শুধুমাত্র কর্মীদের দিয়ে মানুষকে ত্রাণ বিতরণ করে চলেছেন।’’

এদিকে কাউন্সিলর দিনা সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন-‘‘আপনাদের আশে পাশের কেউ যদি গর্ভবতী থাকেন তাদের প্রতি একটু খেয়াল রাখবেন। যদি এমন কেও থাকেন গর্ভবতী কিন্তু ডেলিভারি করার এই মুহুর্তে সামর্থ্য নেই, আমার সাথে যোগাযোগ করবেন। আল্লাহর রহমতে বিপদ কারো জন্য থেমে থাকেনা। এই দূর্যোগে আল্লাহপাক সবাইকে রহমতদান করুক এই দোয়া করি।’’

দিনা বলেন- ‘‘আমি ধন্যবাদ জানাই সাংবাদিক প্রীতি আপাকে, সময় মত এই গর্ভবতী মা’কে নিয়ে না আসলে হয়তো কোনো অঘটন ঘটে যেতে পারতো। সেই সাথে বিশেষ ধন্যবাদ জানাই ডাঃ তাইফুর ভাইকে। এই দূর্যোগে যেখানে ডাক্তার পাওয়া যায়না সেখানে সে নিয়মিত তার হাসপাতাল “সুফিয়া জেনারেল হসপিটাল” এ বসে নিয়মিত রোগী দেখছেন। এগিয়ে আসছেন অসহায় গর্ভবতী মায়েদের পাশে।’’

উল্লেখ্য, এর আগে কাউন্সিলর দিনা এক অসহায় গর্ভবতী নারীকে হাসপাতালে নিয়ে ডেলিভারির ব্যবস্থা করেন সম্পূর্ণ নিজ খরচে।