ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয় যতটা সম্ভব বিনয়ী থাকবেন : ওবায়দুল কাদের

670

মিরর বাংলাদশে : আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, মুজিববর্ষ উদযাপনের সময় আপনারা কেউ ক্ষমতার দাপট কেউ দেখাবেন না। ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। যতটা সম্ভব বিনয়ী থাকবেন।
শুক্রবার সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক যৌথসভায় ওবায়দুল কাদের এ সব কথা বলেন।
ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক, থানা ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি সাধারণ সম্পাদক, সহযোগী সংগঠনের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক, মেয়র ও কাউন্সিলরবৃন্দ এবং মহানগরের অন্তর্গত দলীয় সংসদ সদস্যদের মধ্যে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে সভাপতিমÐলীর সদস্য সাহারা খাতুন, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সবুর, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দীসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।সভায় মুজিববর্ষ উদযাপনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান নিয়ে দিক নির্দেশনা দেন ওবায়দুল কাদের।
ওবায়দুল কাদের দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনাদেরকে আবারও একটি অনুরোধ করব, আমাদের নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে। আপনারা যে কোনো পরিস্থিতিতে মাথা ঠান্ডা করে মুজিববর্ষের ভাবগাম্ভীর্য বজায় রাখবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর যে বিনয়ের শিক্ষা, বঙ্গবন্ধুর যে ধৈর্য্যের শিক্ষা, বঙ্গবন্ধুর যে ত্যাগের শিক্ষা সেই শিক্ষা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। কোনো অবস্থায় মুজিববর্ষ উদযাপনের নামে এলাকায় এমন কোনো আচরণ কারও সঙ্গে করবেন না, যেন কোনো মানুষ আমাদের নেতাকর্মীদের থেকে কোনো প্রকার বিরূপ আচরণের যেন মুখোমুখি না হয়। মানুষ যেন কোনো প্রকার হয়রানির শিকার না হন। কোনো মানুষ যেন কষ্ট না পায় আপনাদের তা খেয়াল রাখতে হবে।’
মুজিববর্ষের অনুষ্ঠানের নামে কেউ যেন চাঁদাবাজির দোকান না খোলে সেদিকে খেয়াল রাখার জন্য দলের নেতাকর্মী ও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘চাঁদাবাজি করে মুজিববর্ষের অনুষ্ঠান কেউ করবে না। কোনো অবস্থাতেই এ সব বাড়াবাড়ি সহ্য করা হবে না। পার্টির পক্ষ থেকে, আমাদের নেত্রীর পক্ষ থেকে পরিষ্কারভাবে আপনাদেরকে পরিমিতি বোধের পরাকাষ্ঠা প্রদর্শনের আহ্বান জানাচ্ছি।’
মুজিববর্ষের নামে ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টার, বিলবোর্ডে নিজেদের আত্মপ্রচার না করার অনুরোধও জানান দলের সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, পোস্টার ব্যানার বিলবোর্ড করবেন, পোস্টার, ব্যানার বিলবোর্ড করতে কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু পোস্টার, ব্যানার এবং বিলবোর্ডের যেন আত্মপ্রচারের একটা মাধ্যম না হয়। মুজিববর্ষে বঙ্গবন্ধুকে প্রদর্শন করতে গিয়ে যেন আত্মপ্রদর্শনের বিষয়টা যেন উৎকটভাবে প্রকাশ না পায়। কাজেই আপনারা পোস্টার, ব্যানার, বিলবোর্ড করতে পারেন এব্যাপারে বাধা নেই। সৌজন্য নাম ব্যবহার করতে পারবেন কিন্তু নিজেদের ছবি ব্যবহার করতে পারবেন না।’
পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের অনুমতি ছাড়া বঙ্গবন্ধুর কোন ম্যুরাল কোথাও স্থাপন করা যাবে না বলেও জানান তিনি। কারণ যত্রতত্র বঙ্গবন্ধুর নামে ম্যুরাল স্থাপন, নানান প্রদর্শনী আয়োজন করতে গিয়ে অনেকে নিজের প্রদর্শন করেন। মুজিববর্ষের প্রচার করতে গিয়ে আত্মপ্রচার যেন প্রাধান্য না পায়, বিষয়টি স্মরণ রাখার অনুরোধ জানান তিনি।
‘দল হিসেবে আওয়ামী লীগ মুজিববর্ষ কিভাবে উদযাপন করবে সেই কর্মসূচি এখনো সামনে আসেনি’ এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমরা দলীয় কর্মসূচির ব্যাপারে এখনো আনুষ্ঠানিক প্রচার করিনি। আর এটি তো একদিনের প্রোগ্রাম নয়। বছরব্যাপী প্রোগ্রাম হবে। প্রথমদিনের প্রোগ্রামটার জন্যই আমরা সবাইকে ডেকেছি। জাতীয়ভাবে জাতীয় কমিটির আয়োজনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করতে সবাইকে ডেকেছি। আমাদের দলীয় প্রোগ্রাম আছে। খুব শিগগিরই আমাদের দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভা হবে। সেখানে আমরা আমাদের দলীয় কর্মসূচিও হাতে নেব।