চিনি শিল্পে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন ভাতা না পেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে

255

মিরর বাংলাদেশ : চিনিশিল্প বন্ধের প্রক্রিয়া বন্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আহবান জানিয়েছেন চিনিশিল্প করপোরেশন শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশন নেতৃৃবন্দ। এর পাশাপাশি তারা চিনিশিল্পে নিয়োজিত শ্রমিক-কর্মচারীদের বকেয়া বেতন-ভাতা, অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক কর্মচারীদের গ্রাচ্যুইটির টাকা প্রদানের দাবি জানান।
সংগঠনটির উদ্যোগে বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এআহবান জানান এর নেতারা। এর পাশাপাশি আখ চাষী ভাইদের আখের মূল্য প্রদান সহ অধিকতর আখ উৎপাদনের জন্য সার, বীজ প্রয়োজনীয় উপকরণ যথাসময়ে প্রদানের দাবিও করেন তারা।
চিনিশিল্প করপোরেশন শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশন কর্তৃক আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আনোয়ারুল হক। এতে আরো উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি মোঃ মাসুদুর রহমানসহ আরো অনেকে।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয় দেশের প্রত্যন্ত উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের একমাত্র ভারী শিল্প বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন।স্বাধীনতা উত্তর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশের শোষিত বঞ্চিত শ্রমিকের কথা বিবেচনা করে চিনিকলগুলোকে ১৯৭২ সালে জাতিয়করণ করেন। তৎপরবর্তী চিনি শিল্পের নিয়োজিত শ্রমিক-কর্মচারীগণ শ্রম মেধা দিয়ে শিল্পের উন্নয়নে চালিকা শক্তি হিসাবে কাজ করে আসছেন। কিন্তু পর্যায়ক্রমে চিনি শিল্প নীতি কৃষি পণ্যের ভিত্তিতে আখ চাষীদের আখের মূল্য নির্ধারণ ও আন্তর্জাতিক বাজার মূল্য তথা দেশের জনগনের কথা বিবেচনা করে চিনির মূল্য নির্ধারণ যা সরকারের নীতি নির্ধারণী বিষয়। এঅবস্থায় চিনি শিল্পের বর্তমান পরিস্থিতির আলোকে লাভ এবং লোকসান বিষয়টি সম্পূর্ণ ভাবে সরকারী এখতিয়ারভূক্ত। উপরোক্ত নীতি নির্ধারণী বিষয়ে শ্রমিক-কর্মচারীদের সংশ্লিষ্টতা নাই।
নেতারা বলেন, চিনিশিল্পে নিয়োজিত শ্রমিক-কর্মচারীদের প্রায় ৫/৬ মাস ধরে বেতন ভাতা না পেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে যা অত্যন্ত অমানবিক। এমনকি মজুরি কমিশন-২০১৫ ঘোষিত হওয়ার প্রায় ০৫ (পাঁচ) বছর অতিবাহিত হওয়ার পরও শ্রমিকদের প্রাপ্য এরিয়ার টাকা প্রদান করেনি। অপরদিকে চাকুরি শেষে অবসর গ্রহণকারী শ্রমিক-কর্মচারীদের পাওনা গ্রাচ্যুইটির টাকা প্রদান না করায় অনেকেই পরিবার পরিজন নিয়ে অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে। শ্রমিক-কর্মচারীদের পবিত্র আমানত প্রভিডেন্ট ফান্ডের সঞ্চিত অর্থ করপোরেশনের কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন অজুহাতে গ্রহণ করার কারনে অবসরকালীন সময়ে শ্রমিক-কর্মচারীগণ প্রভিডেন্ট ফান্ডের পাওনা টাকা পেতে হিমশিম খাচ্ছে।
ফেডারেশন নেতারা মনে করেন বিএডিসি, বিসিক, বিমান, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সরকারের ভর্তুকির মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে বিধায় চিনিশিল্প রক্ষার নিমিত্তে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন, ভাতা সরকারের রাজস্ব খাতে অন্তর্ভূক্ত করা সহ প্রয়োজনীয় ভর্তুকি প্রদানের মাধ্যমে চিনিশিল্প লোকসানের হাত থেকে রক্ষা পাবে। এবং সমতে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান হয় সংবাদ সম্মেলন থেকে।