জাতির জনকের শততম জন্মবার্ষিকীর দিন মঙ্গলবার শুরু, বর্ণিল সাজে দেশ

768

মিরর বাংলাাদেশ : স্বাধীনতার স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মদিন মঙ্গলবার।  এদিন থেকে শুরু মুজিববর্ষেরও। বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকীর দিন । ১৭ মার্চ থেকে শুরু হয়ে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে মুজিববর্ষ উদযাপন করা হবে।দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক পৃথকবাণী দিয়েছেন।
দিবসটি উপলক্ষে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহন করা হলেও করোনা ভাইরাসজনিত বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে মুজিব বর্ষের কর্মসূচি পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাত আটটায় বঙ্গবন্ধুর জন্মক্ষণে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আতশবাজির মধ্যদিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে। রাষ্ট্রপতি তার ভাষণের পরপর আতশবাজির মাধ্যমে জন্মশতবার্ষিকীর কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।
১৯২০ সালের ১৭ই মার্চ তদানীন্তন ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার টুঙ্গিপাড়ায় পিতা শেখ লুৎফর রহমান এবং মাতা সায়েরা খাতুনের ঘর আলোকিত করে জন্মগ্রহণ করেন শেখ মুজিবুর রহমান। চার বোন এবং দুই ভাইয়ের মধ্যে শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন তৃতীয়।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিুবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ সকল বেসরকারি টিভি চ্যানেল, সোশ্যাল ও অনলাইন মিডিয়ায় একযোগে সম্প্রচার করা হবে।
স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত এই নেতা ১৯২০ সালের এই দিনে গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ায় এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। এই দিনটি জাতীয় শিশু কিশোর দিবস হিসাবেও উদযাপিত হয়।
এর আগে গত ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণ গণনা শুরু হয়। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তেজগাও এলাকার পুরাতন বিমান বন্দরে (জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ড) ‘জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু’ শ্লোগানে ক্ষণ গণনার উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনের পর প্রতিটি জেলা, উপজেলা ও জনপরিসরে ক্ষণগণনা শুরু হয়। দেশের ৫৩ জেলা, দুটি উপজেলা, ১২টি সিটি করপোরেশনের ২৮টি পয়েন্ট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ রাজধানীর ৮৩টি পয়েন্টে কাউন্টডাউন ঘড়ি বসানো হয়।
এর আগে ‘মুজিববর্ষ’ উদযাপনে উচ্চপর্যায়ের দুটি কমিটি গঠন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১০২ সদস্যের জাতীয় উদযাপন কমিটি এবং জাতীয় অধ্যাপক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে ৬১ সদস্যের জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মুখ্য সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব এবং বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া আওয়ামী লীগ গঠিত ‘মুজিববর্ষ’ উদযাপন কমিটিতে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনাকে চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে সদস্য সচিব করা হয়।
জাতি যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে আজ মুজিব বর্ষের সূচনা ও বঙ্গবন্ধুর জন্ম দিবসটি উদযাপন করবে। বিশ্বের অন্যান্য দেশে বাংলাদেশী দূতাবাসসমূহে দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় উদ্যাপন করা হবে। দিনটিকে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
দিবসটি উপলক্ষে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহন করা হলেও করোনাভাইরাসের কারণে বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে মুজিব বর্ষের কর্মসূচি পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। রাত আটটায় রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বঙ্গবন্ধুর জন্মক্ষণে আতশবাজির মধ্যদিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে। রাষ্ট্রপতি তার ভাষণের পরপর আতশবাজির মাধ্যমে জন্মশতবার্ষিকীর কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রেকর্ড করা ভাষণসহ অন্যান্য আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে সারাদেশে বিভিন্ন মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল এবং অন্যান্য উপাসনালয়ে প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানগুলোতে সীমিত আকারে কর্মসূচি পালন করা হবে।
বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী জানিয়েছেন, বড় ধরনের জমায়েত পরিহার করে উৎসবমুখর পরিবেশে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনে অন্যান্য কর্মসূচি পালন করা হবে।
কামাল নাসের বলেন, জনসমাগম পরিহার করে সারাদেশে এক সঙ্গে মুজিব বর্ষের অনুষ্ঠান দেশের সব গণমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সম্প্রচারের ব্যবস্থা করা হবে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৪০ সালে সর্বভারতীয় মুসলিম ছাত্র ফেডারেশনে যোগদানের মাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। ১৯৪৬ সালে তিনি কলকাতা ইসলামিয়া কলেজ (বর্তমানে মওলানা আজাদ কলেজ) ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
বঙ্গবন্ধু ১৯৪৯ সালে তৎকালীন আওয়ামী মুসলিম লীগের পূর্ব পাকিস্তান শাখার যুগ্ম-সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৫৩ সালে তিনি পার্টির সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের টিকেটে ইস্ট বেঙ্গল লেজিসলেটিভ এসেম্বলীর সদস্য নির্বাচিত হন। ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নেয়ায় বাঙালি জাতির অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে আজীবন সোচ্চার এই অবিসংবাদিত নেতাকে রাজনৈতিক জীবনে বহুবার কারাবরণ করতে হয়।
তিনি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৫৮ সালের সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ৬-দফা ও পরবর্তীতে ১১ দফা আন্দোলন এবং ১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থানসহ প্রতিটি গণতান্ত্রিক ও স্বাধিকার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন এবং বঙ্গবন্ধু উপাধি লাভ করেন। তাঁর সাহসী ও দূরদর্শী নেতৃত্বে বাঙালি জাতি ধাপে ধাপে স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে থাকে।
১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জিত হলেও তৎকালীন পাকিস্তানের সামরিক জান্তা ক্ষমতা হস্তান্তর না করে বাঙালি জাতির ওপর নানা নির্যাতন শুরু করে। বঙ্গবন্ধু একাত্তরের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণে স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক দেন। যা ইউনেস্কোর ইন্টারন্যাশনাল মেমোরি অব দ্য ওয়াল্ড রেজিস্টার এ অর্ন্তভুক্তির মাধ্যমে বিশ্বপ্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসাবে স্বীকৃতি লাভ করেছে।
অন্যদিকে ২৫ মার্চ মধ্যরাতে (২৬ মার্চ) তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং তাঁর নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাঙ্গালীর বহু আকাঙ্খিত বিজয় ও স্বাধীনতা অর্জিত হয়। বিংশ শতাব্দীতে নির্যাতিত, নিপীড়িত ও শোষিত মানুষের জন্য আন্দোলন সংগ্রাম করে যারা বিশ্বনন্দিত নেতা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাদের অন্যতম।
সাম্য, মৈত্রী, স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিরামহীন সংগ্রামে অবদান রাখার জন্য তিনি বিশ্বশান্তি পরিষদের জুলিও কুরি পদকে ভূষিত হন। বিবিসি’র এক জরীপে তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী নির্বাচিত হন। যুদ্ধ বিধ্বস্ত স্বাধীন বাংলাদেশের জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনের লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু যখন বিভিন্নমুখী কার্যক্রম গ্রহণ করতে শুরু করেন ঠিক সেই মুহূর্তে স্বাধীনতা যুদ্ধে পরাজিত শক্তি ও কায়েমী স্বার্থান্বেষী মহল তাঁর বিরুদ্ধে ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র শুরুকরে এবং ওই ষড়যন্ত্রেরই অংশ হিসেবে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তিনি তাঁর ধানমন্ডির বাসভবনে কতিপয় বিপথগামী সেনা কর্মকর্তার হাতে পরিবারের অধিকাংশ সদস্যসহ নিহত হন।
বিশ্ব গণমাধ্যমের চোখে বঙ্গবন্ধু ছিলেন ক্ষণজন্মা পুরুষ। অনন্য সাধারণ এই নেতাকে ‘স্বাধীনতার প্রতীক’ বা ‘রাজনীতির ছন্দকার’ খেতাবেও আখ্যা দেয়া হয়। বিদেশী ভক্ত, কট্টর সমালোচক এমনকি শত্রুরাও তাদের নিজ নিজ ভাষায় তাঁর উচ্চকিত প্রশংসা করেন।
বিগত বিংশ শতাব্দীর কিংবদন্তী কিউবার বিপ্ল¬বী নেতা প্রয়াত ফিদেল ক্যাস্ট্রো বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হিমালয়ের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। ক্যাস্ট্রো বলেন, ‘আমি হিমালয়কে দেখেনি, তবে শেখ মুজিবকে দেখেছি। ব্যক্তিত্ব ও সাহসে এই মানুষটি ছিলেন হিমালয় সমান। সুতরাং হিমালয় দেখার অভিজ্ঞতা আমি লাভ করেছি। শ্রীলংকার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ল²ণ কাদির গামা (নৃশংস হত্যার শিকার) বাংলাদেশের এই মহান নেতা সম্পর্কে মূল্যায়ন করতে গিয়ে বলেছিলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়া গত কয়েক শতকে বিশ্বকে অনেক শিক্ষক, দার্শনিক, দক্ষ রাষ্ট্রনায়ক, রাজনৈতিক নেতা ও যোদ্ধা উপহার দিয়েছে। কিন্তু শেখ মুজিবুর রহমান সবকিছুকে ছাপিয়ে যান, তাঁর স্থান নির্ধারিত হয়ে আছে সর্বকালের সর্বোচ্চ আসনে।
বঙ্গবন্ধু ছিলেন জনগণের নেতা এবং তাদের সেবায় সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন। তাকে দেয়া বঙ্গবন্ধু খেতাবে এই দেশপ্রেমিক নেতার প্রতি দেশের মানুষের গভীর ভালবাসা প্রতিফলিত হয়।’
ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় ২০১৩ সালের ৪ মার্চ নগরীর ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন শেষে মন্তব্য বইয়ে এমন মন্তব্য লিখেছিলেন।
ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং মন্তব্য বইয়ে বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর সম্মোহনী এবং অসীম সাহসী নেতৃত্বের মাধ্যমে স্বাধীনতা যুদ্ধে তাঁর জনগণের নেতৃত্বদান করেছিলেন।
জার্মানীর সাবেক প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিয়ান উলফ বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে লিখেন, ‘এই স্মৃতি জাদুঘর আমাদের একজন মহান রাষ্ট্রনায়ককে স্মরণ করিয়ে দেয়, যিনি তার জনগণের অধিকার ও মর্যাদার জন্য লড়াই করেছিলেন এবং অতিদ্রæত স্বাধীনতা ও জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রæতিবদ্ধ ছিলেন।’
ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি সোনিয়া গান্ধী বলেন, ‘দূরদৃষ্টিসম্পন্ন একজন নেতা এবং রাষ্ট্রনায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি আমি শ্রদ্ধা জানাই। তিনি স্বাধীনতার জন্য প্রতিকূলতা ও বিরূপ পরিস্থিতি উপেক্ষা করে অটল সাহসিকতার সাথে লড়াই করেছেন।’
কর্মসূচি:
মুজিববর্ষ উপলক্ষে আওয়ামী লীগের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, আজ সকাল সাড়ে ৬ টায় বঙ্গবন্ধু ভবন, আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশের সকল আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন। সকাল সাতটায় বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে রক্ষিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন।
এছাড়াও আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির একটি প্রতিনিধি দল টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া মাহফিলে অংশ গ্রহণ। এছাড়াও দেশের সকল ধর্মীয় উপাসানালয়ে বিশেষ প্রার্থনা করা হবে। এতিম ও দুঃস্থদের মাঝে খাবার ও ত্রাণ বিতরণ হবে।
রাত আটটায় বঙ্গবন্ধু জন্মক্ষণ উপলক্ষে সারাদেশে একযোগে আতশবাজি প্রদর্শনী হবে। আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ৩২ নং ধানমন্ডিস্থ বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে এবং ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই আতশবাজি প্রদর্শনী হবে। এছাড়াও ঢাকার রবীন্দ্র সরেবর, হাতিরঝিল, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, টিএসটি ও জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় আতশবাতি প্রদর্শনী হবে।
কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, আগামী ১৭মার্চ সকাল সাড়ে ৬ টায় বঙ্গবন্ধু ভবন, আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশের সকল আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তলণ। সকাল সাতটায় বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে রক্ষিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন।
এছাড়াও, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির একটি প্রতিনিধি দল টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া মাহফিলে অংশ গ্রহণ করবেন।
আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির একটি প্রতিনিধি দল টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া মাহফিলে অংশ নিবেন। টুঙ্গীপাড়ার কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে সভাপতিম-লীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি, লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান এমপি ও জাহাঙ্গীর কবির নানক, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ এমপি, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ এমপি, ডা. দীপু মণি এমপি, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপি ও আ. ফ. ম বাহাউদ্দিন নাছিম, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মুকুল বোস, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ এমপি, শ্রম ও জনশক্তি বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক শামসুন্নাহার চাঁপা, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়–য়া এবং ধর্ম প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভেঅকেট শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহসহ প্রমুখ উপস্থিত থাকবেন।
মসজিদ, মন্দির, প্যাগোডা, গির্জাসহ সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দেশব্যাপী বিশেষ প্রার্থনা কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাদ জোহর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদসহ দেশের সকল মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।
এছাড়াও সকাল ৮টায় তেজগাঁও গির্জায়, সকাল ৯টায় মিরপুর ব্যাপ্টিস্ট চার্চ (৩/৭-এ সেনপাড়া, পবর্তা, মিরপুর-১০)-এ খ্রিস্টান সম্প্রদায়, সকাল ১০টায় রাজধানীর মেরুল বাড্ডাস্থ আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারে বৌদ্ধ সম্প্রদায় এবং সকাল সাড়ে ১১টায় ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে হিন্দু সম্প্রদায় প্রার্থনা সভার আয়োজন করেছে।
এদিকে, দুপুর ১২টায় আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক উপ-কমিটির উদ্যোগে আজিমপুর এতিমখানা প্রাঙ্গণে অসহায়, দুস্থ ও এতিমদের মাঝে খাবার, বস্ত্র ও করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে ব্যবহার্য সামগ্রী বিতরণ। দুপুর ১টায় ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বনানী করাইল বস্তিতে এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এতিম ও দুঃস্থ মানুষের মাঝে খাবার ও মিষ্টি বিতরণ।
এছাড়াও বাদ আসর রাজধানীর প্রতিটি ওয়ার্ডে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ দুঃস্থদের দুঃস্থ মানুষের মাঝে খাবার ও মিষ্টি বিতরণ করবে। সারাদেশে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে অনুরূপ কর্মসূচি পালন করা হবে।
বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর দিন রাত ৮টায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মক্ষণ উপলক্ষে সারাদেশে একযোগে আতশবাজি প্রদর্শনী ও ফানুস উত্তোলন করা হবে। আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ধানমন্ডিস্থ বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে, ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়, ধানমন্ডি রবীন্দ্র সরোবর, হাতিরঝিল, সোরাওয়ার্দী উদ্যান, টিএসসি ও জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় আতশবাজি প্রদর্শনী। এ ছাড়াও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ রাজধানীর প্রধান প্রধান সড়কে আলোকসজ্জা করা হবে।
এদিকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ‘মুজিব বর্ষ’ উপলক্ষে রাত ৮ টায় জাতীয় সংসদ ভনের সামনে প্রদীপ প্রজ্বলন কর্মসূচি পালন করবে কেন্দ্রীয় ১৪ দল। পরে সেখান থেকে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে রক্ষিত জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবে।
মুজিববর্ষ পালনের লক্ষে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ ১৭ মার্চ সন্ধ্যায় ধর্মীয়-জাতিগত সংখ্যালঘু সংগঠনসমূহকে সমন্বিত করে ঢাকাসহ সারা দেশে আলোর মিছিল বের করবে। আজ বিকেল ৬টায় রাজধানীর কলাবাগান মোড় থেকে কুলোর উপর প্রদীপ জ¦ালিয়ে আলোর মিছিল বের করা হবে এবং তা বঙ্গবন্ধু ভবনে গিয়ে শেষ হবে। এছাড়া বছরব্যাপী আলোচনা সভা, গোলটেবিল সংলাপ ইত্যাদির মাধ্যমেও মুজিববর্ষ পালন করবে সংগঠনটি।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জন্মশতবার্ষিকী বাস্তবায়ন জাতীয় কমিটির প্রধান সমন্বয়ক কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী জানান, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পাশাপাশি সারাদেশে রাত ৮টায় আতশবাজির মধ্য দিয়ে শুরু হবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী মুজিববর্ষের অনুষ্ঠান। পরে দেশের সব টেলিভিশন, বিদেশি টেলিভিশন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একযোগে প্রচারিত হবে ‘মুক্তির মহানায়ক’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠান। দুই ঘণ্টাব্যাপী ওই অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি,প্রধানমন্ত্রী, বিদেশি কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের ভাষণ থাকবে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কণ্ঠে একটি কবিতাও শোনা যাবে ওই অনুষ্ঠানে।
কামাল আবদুল নাসের বলেন, মুজিববর্ষের মূল অনুষ্ঠান প্যারেড গ্রাউন্ডে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেখানে কোনো অনুষ্ঠান হবে না। আমরা টিভি পোগ্রাম তৈরি করেছি। তাতে আতশবাজি ও লেজার শো থাকবে। বঙ্গবন্ধু রাত ৮টার দিকে জন্ম নিয়েছিলেন। আমরা সেই ক্ষণে উৎসব করতে চাই।
তিনি বলেন, রাত ৮টায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আতশবাজির মধ্য দিয়ে মুজিববর্ষের অনুষ্ঠান শুরু হবে। টেলিভিশনে তা প্রচার হবে। আতশবাজি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে টেলিভিশনগুলোতে জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হবে। ওই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর কণ্ঠে একটি কবিতা শোনা যাবে, যেটি লিখেছেন শেখ রেহানা। ওই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাষ্ট্র ও সংস্থার প্রধানদের বক্তব্য প্রচারিত হবে।
কামাল আবদুল নাসের বলেন, মুজিববর্ষের মূল অনুষ্ঠান টেলিভিশনেই প্রচারিত হবে। টুঙ্গিপাড়ায় প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে শিশু সমাবেশ হবে না। আতশবাজি করা হবে জনাসমাগম এড়িয়ে।
এক প্রশ্নের উত্তরে জাতীয় কমিটির এই সমন্বয়ক বলেন, নেপালের রাষ্ট্রপতি, ভারতের প্রধানমন্ত্রী, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী, জাতিসংঘের মহাসচিব ও ওআইসির মহাসচিবের বক্তব্য থাকবে ওই অনুষ্ঠানে। অনুষ্ঠানে পরিবেশিত হবে মুজিব বর্ষের থিম সং, যাতে কণ্ঠ দিয়েছেন শেখ রেহানা। অনুষ্ঠানের শেষে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় হবে পিক্সেল ম্যাপিং, সেখানে থাজবে লেজার শো। রেকর্ডেড অনুষ্ঠানের আগে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের আতশবাজি ও পরে জাতীয় সংসদের লেজার শোও টেলিভিশনগুলোতে প্রচার হবে। এর আগে বিকেল ৫টায় গণভবনে স্মারক ডাকটিকিট ও স্যুভেনির উন্মোচন করবেন শেখ হাসিনা।
অলি-গলিতে ক্লাবগুলো সেজেছে বর্ণিল আলোকসজ্জায়
মুজিব বর্ষের আয়োজনকে ঘিরে রঙিন হয়ে উঠেছে রাজধানী ঢাকা। ব্যাংক-বীমাসহ সরকারি দপ্তর থেকে শুরু করে অভিজাত হোটেলগুলো, নগরের অলি-গলিতে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসহযোগি সংগঠনের ক্লাবগুলো সেজেছে বর্ণিল আলোকসজ্জায়। রাস্তার দুই পাশ ও মোড়ে মোড়ে শোভা পাচ্ছে বাহারি রংয়ের আলোর ঝলকানি। একইসাথে শুভা পাচ্ছে নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক ও মোড়ে মোড়ে সরকারি দলের নেতাদের ছবিসহ আত্মপ্রচারের গেইটগুলোও।
আজ ১৭মার্চ জাতির জনকের জন্ম শতবার্ষিকী পালনে করবে গোটা দেশ। দিন পেরুলেই আসবে সেই ক্ষণ। করোনা ভাইরাসের কারণে আয়োজনে পরিবর্তন আনা হয়েছে ইতিমধ্যে। তবে দিবসটি সামনে রেখে সাজানো হয়েছে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের বিভিন্ন স্থাপনা। এ আয়োজনে বাড়তি যোগ হয়েছে আলোকসজ্জা। গত কয়েকদিন ধরে ঢাকা রূপ নিয়েছে আলোর নগরীতে। নগরীর প্রধান সড়ক, স্থাপনাগুলোয় শোভা পাচ্ছে বাহারি রঙের আলো। বর্ণিল আলোকসজ্জায় চোখ জুড়িয়ে যাচ্ছে। বাদ যায়নি রাস্তার মোড়, ল্যামপোস্টও। আর এ দৃশ্য দেখতে মধ্যরাতেও এসেছেন অনেকে। শুধু সড়ক নয়, আলোর ঝলকানিতে মেতে উঠেছে ব্যাংক-বীমাসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও পাচঁতারকা হোটেলগুলোসহ অলিগলি ও সরকারি দলের ক্লাবগুলো। নগরবাসিও বেশ উপভোগ করছেন এমন দৃশ্য। বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকীর এমন আয়োজন দেখতে পেয়ে অনেকেই জানিয়েছেন তাদের সন্তুষ্টির কথা। মুজিব বর্ষের সকল আয়োজনের মধ্যে দিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতি যথাযথ সম্মান জানানোর পাশাপাশি নতুন প্রজন্ম বাংলাদেশের সঠিক ইতিহাস জানবে এমনটাই প্রত্যাশা আলোকসজ্জা দেখতে আসা দর্শনার্থীদের।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে নতুন সাজে সেজেছে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সড়ক, স্থাপনা, অফিস-আদালত। সন্ধ্যার পরই লাল-সবুজের আলোতে ঝলমলিয়ে ওঠে পুরো রাজধানী। চোখ ধাঁধানো এ আলোকসজ্জার ঝলকানিতে মন কেড়েছে সবার। রাজধানীর ব্যাংকপাড়া মতিঝিল, পল্টন, দৈনিক বাংলা, গুলিস্তানসহ বিভিন্ন এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ ভবনগুলো আলোকসজ্জা করা হয়েছে। বিভিন্ন রঙের ও বর্ণের এসব আলোকসজ্জা উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। ব্যাংলাদেশে ব্যাংকের গভর্নর ভবনে চোখ ধাঁধানো আলোকসজ্জা করা হয়েছে। ভবনে বাতি ঝলমলিয়ে ফুটে উঠছে লাল-সবুজের জাতীয় পতাকা, সামনে স্মৃতিসৌধ, একপাশে অস্ত্র হাতে মুক্তিযোদ্ধারা অন্যপাশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতীকী ছবি। এছাড়া মতিঝিল শাপলা চত্বর এলাকায় সোনালী ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, কৃষি ব্যাংক, জীবন বীমা ভবনসহ বড় বড় স্থাপনা সাজানো হয়েছে। রাস্তার দুই পাশের গাছে গাছে বাহারি আলোকরশ্মি। সাদা, লাল, নীল, সোনালী হরেক রঙের মরিচবাতি।
ঢাকা-৫ আসনে ১০০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আলোকসজ্জা
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী “মুজিববর্ষ” উপলক্ষে ঢাকা-৫ সংসদীয় আসনের ১০০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও থানা-ওয়ার্ড, ইউনিট এর দলীয় অফিসগুলো বর্ণিল আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে। নিজ উদ্যোগে এই আলোকসজ্জা করেছেন ডেমরা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান মোল্লা সজল। আজ মঙ্গলবার সকাল ৭টায় ডেমরা ও যাত্রাবাড়ি থানা আওয়ামী লীগের কার্যালয়গুলোতে পতাকা উত্তোলন করা হবে। এদিন রাত ৮টায় স্টাফ কোয়াটারে আতশবাজি উৎসব পালন করা হবে। এতে ৬৪,৬৫,৬৬,৬৭,৬৮,৬৯ এবং ৭০ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলগন উপস্থিত থাকবেন। এছাড়াও ঢাকা-৫ সংসদীয় এলাকার বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অফিস, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সেতুকে বর্ণিল আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে। এই আলোকসজ্জা চলবে আগামী কয়েক মাস পর্যন্ত। প্রানঘাতী করোনাভাইরাসের কারনে মুজিববর্ষের অনুষ্ঠান সীমিত করা হলেও ডেমরা-যাত্রাবাড়ি থানাধীন এলাকায় চোখ ধাঁধানো আলোকসজ্জা মুজিববর্ষকে স্মরণীয় করে রাখবে তৃণমূল আওয়ামী লীগ। এতে সন্ধ্যার পর মুজিববর্ষে জনমনে আনন্দ আর উচ্ছ¡াস সৃষ্টি করেছে। সবখানেই যেন লাল-সবুজের আলোয় আলোয় অন্ধকারে ঢেকে পরেছে করোনা আতঙ্কের সমস্থ কালো। মুজিববর্ষকে স্মরণীয় করে রাখতে রাজধানীর প্রবেশপথ ডেমরা সুলতানা কামাল সেতু ও যাত্রাবাড়ি জুড়ে বর্ণিল আলোকসজ্জায় পরিণত হয়েছে লাল-সবুজের পতাকায়।
নতুন সাজে সংসদ ভবন
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে সংসদ ভবন সেজেছে নতুন সাজে। পুরো এলাকায় বিভিন্ন রংয়ের আলোকসজ্জায় সাজানো হয়েছে সংসদ ভবন। তাই পাল্টে গেছে সংসদ ভবন এলাকার চিত্র। সংসদ সচিবালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীতে সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় পিক্সেল ম্যাপিংয়ে ভেসে উঠবে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ। এছাড়া লেজার শো’র মাধ্যমে ভেসে উঠবে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীক নৌকা। সংসদের লেকের মাঝখানে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের সেই আঙুল উঁচিয়ে দেওয়া ভাষণের প্রতিচ্ছবি লেজার শোর মাধ্যমে দেখানো হবে। এছাড়া সংসদের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণের মাঠে স্থাপন করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু কর্নার। অনুষ্ঠানে ১৯৫২ সাল থেকে শুরু করে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর ভূমিকাগুলো তুলে ধরা হবে। এরইমধ্যে সংসদ ভবনের লেকের পাড়ে প্রতিটি দেয়ালে লাইটিংয়ের মাধ্যমে নৌকার প্রতিচ্ছবি দেখা যাচ্ছে। এছাড়া সংসদে প্রবেশের প্রতিটি পথেই বিভিন্ন রঙয়ের পতাকা দিয়ে সাজানো হয়েছে বলেও জানান তিনি। এছাড়া দক্ষিণ প্লাজার অনুষ্ঠানও সর্ব সাধারণের জন্য উন্মুক্ত নয়। নির্ধারিত গণমাধ্যম ওখান থেকে সরাসরি স¤প্রচার করবে, আর সেই অনুষ্ঠান টিভির মাধ্যমে সারাদেশের মানুষ উপভোগ করবে।
মুক্তির মহানায়ক’ নামে মুজিববর্ষের অনুষ্ঠান
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানের নামকরণ করা হয়েছে মুক্তির মহানায়ক। ১৭ মার্চ ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে আতশবাজির মাধ্যমে শুরু হয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় পিক্সেল শোর মাধ্যমে শেষ হবে। মূলত টেলিভিশনের মাধ্যমেই বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।##