জীবিত থেকেও মৃত্যুর খবর দিলেন স্বেচ্ছাসেবী ওয়াহিদুজ্জামান সাগর

880

মিরর বাংলাদেশ : অসংখ্য ভালো কাজের উদ্যোক্তা তিনি। অসহায় মানুষদের  জন্য ছুটতেন।সারা দেশে তার রয়েছে অগনিত স্বেচ্ছাসেবী। এদের নিয়ে তিনি ভালো কাজে ছুটে বেড়ান। আমরা রক্তের সন্ধানী নামের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মাধ্যমে তিনি ইতিপূর্বে অনেক অসুস্থ মানুষকে রক্ত দিয়ে সহায়তা করছেন। টগবগে এ যুবকের নাম ওয়াহিদুজ্জামান।  ডাক নাম সাগর।

করোনা ভাইরাসের এই দুর্যোগের সময় তার মন কাঁদে অসহায় মানুষের জন্য। তিনি মনে করেন      মাত্র ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবী দায়িত্ব নিনওরা দশ লক্ষ পরিবারকে বাচাতে সাহায্য করবে আমি নিশ্চিত আমাদের হাজার হাজার স্বেচ্ছাসেবীর পরিবার না খেয়ে আছে।

মনের  আক্ষেপ থেকে তিনি আজ তার ফেসবুকে লিখেছেন  

ব্রেকিং নিউজ

“এই আইডির মালিক আর পৃথিবীতে নেই”
কিছুক্ষন পূর্বেই তিনি ইন্তেকাল করেছেন।
ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন….!!

তার সকল আত্মীয়দের জানানো হইছে অনেকে দুরে আছেন তারা এসে পৌঁছালেই তার দাফনের শেষ কার্জ শুরু হবে
সকলের কাছে দোয়া চাই মহান আল্লাহ তায়ালা যেন তাকে মাফ করে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করেন।
তিনি যদি কখনও কারো সাথে কোন প্রকার খারাপ আচোরন করে থাকেন তাহলে আপনারা দয়া করে নিজ গুনে তাকে ক্ষমা করে দিবেন।
আমি তার একজন নিকটাত্মীয়।
আপনাদের সবার কাছে তার রুহের মাগফিরাতের জন্য দোয়া কামনা করছি।
তার সকল আত্মীয়দের জানানো হইছে অনেকে দুরে আছেন তারা এসে পৌঁছালেই তার দাফনের শেষ কার্জ শুরু হবে

কী!!
সামান্য একটুও ধাক্কা লেগেছে কারো অন্তরে?
যদি আমাকে এক সেকেন্ডের জন্যেও কোনদিন ভালোবেসে থাকেন,তাহলে কিছুটা ধাক্কা তো লাগারই কথা!!
এমন একটি শোক বার্তা,আর মাত্র কয়েকটাদিন পরে আমার,আপনার আমাদের সবার টাইমলাইনেই আসবে।
তারপর কি হবে জানেন?
মৃত্যুর সংবাদ দেয়া পোস্টটিতে কমেন্টের বন্যা বয়ে যাবে।
“আহারে ভাইয়াটা অনেক ভালো ছিলো,অনেক দুষ্টুমি করতো,অনেক মজা করত।আবার কেউ কাদবেন।
আরে কিছুক্ষন আগেই তো আমার সাথে ম্যাসেঞ্জারে কথা বললো,ইন্না-লিল্লাহ!!
আল্লাহ আপনি এই ভাইয়াটাকে জান্নাতুল ফিরদাউস দান করেন ইত্যাদি ইত্যাদি।
তারপর স্ক্রিনশট নিয়ে পোস্ট দিয়ে কেপশন লিখা হবে,
-এই ভাইয়া আর নেই।
-ভার্চুয়াল জগত থেকে চিরতরে চলে গেলেন অমুক ভাই।
-এখনো বিশ্বাস করতে পারছি না ভাইটা আর দুনিয়াতে নেই।
আপনি কি জানেন?
ঠিক ঐ মুহূর্তে কিছুকিছু মানুষের দোয়া আর আর্তনাদ শুধু কমেন্ট বক্স আর স্ট্যাটাসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়ে যাবে।

আপনার মৃত্যুর খবর শুনেই আপনার জন্য কুরআন নিয়ে বসে যাবে বা আপনার জন্য দুই রাকাত সালাত আদায় করে রহমানের দরবারে কান্নাকাটি করবে এমন একজন মানুষ হয়তো হাতে গুনেও পাওয়া যাবে না এই ভার্চুয়াল জগতে।
আমি, আপনি, আমাদের রুহের আর্তনাদ গুলো যদি এই বেঁচে থাকা মানুষগুলো শুনতো তবে কখনোই তারা মাতামাতি, বাড়াবাড়ি তে লিপ্ত না হয়ে সঠিক পদ্ধতিতে আমাদের কবরে কিছু পাঠাতো।
আমার মৃত্যুর খবর তোমাদের কানে আসা মাত্রই আমার জন্য তোমরা সূরা ইয়াছিন এবং সূরা মুলক পড়ে আমার কবরে এর সওয়াব পৌছে দিও।
আমাকে ক্ষমা করে দিও।
আজ থেকে সাবধান হয়ে যান সবাই।
কবরের জন্য,আখেরাতের জন্য শাস্তির কারণ হতে পারে এমন সব জিনিগুলো, বিষয়গুলো চলো আজকেই মিটিয়ে দেই, পুড়িয়ে দেই, চিরতরে শেষ করে দেই।
ওমা তাওফীক্ব ইল্লা বিল্লাহ!
ওলা-হাওলা ওয়ালা ক্বুয়াতা ইল্লা বিল্লাহ!
অনেক ভালো লাগলো কথাগুলো,,,,,আসলে বাস্তবটা এমনই হবে,,,,, রবের ডাকে কখন যেন চলে যাই,,,,,,
সবাই মাফ করে দিয়েন এই অধম কে!♥