টানা ৪১ দিনে জামাতে নামাজ আদায় করে পুরস্কার পেলো ১২ কিশোর

178

আয়োজকদের দৃষ্টান্ত অনুকরনীয় মনে করছে মুসল্লীরা

মিরর বাংলাদেশ :
ওদের কারো বয়স ৯ কিংবা ১০ বছর। কারো বয়স১১ কিংবা ১২ বছর। ওদের কারো নাম জুনায়েদ, রায়হান,সাজ্জাদ, সিহাব। কৈশোরের দুরন্তপনায় সময় কাটে তাদের। এই বয়সে খেলাধুলার প্রতি ঝোঁক থাকে এসব কিশোরদের। খেলাধুলার প্রতিযোগিতা অংশ নিয়ে পুরস্কার পাওয়ার চিন্তা মাথায় ঘুরঘুর করে অনেকের। তবে এর বিপরীতে ব্যাতিক্রম এক আয়োজনের মাধ্যমে পুরস্কার পেলে ১২ শিশু কিশোর। তা হলো একটানা ৪১ দিন জামাতের সাথে নামাজ আদায় করে কেউ পেলো সাইকেল,ঘড়ি, ধর্মীয় বইসহ নানা রকমের পুরস্কার।
জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে টানা ৪১ দিন তাকবিরে উলার সঙ্গে জামাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করায় ১২ জন কিশোরকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের গুলনগর গ্রামের হাজি তোফাজ্জল হোসেন মূলত কিশোরদের নামাজের প্রতি আগ্রহী করতেই এ ঘোষণা দেন।
রোববার ১২ কিশোরের হাতে সাইকেল, ঘড়ি, ধর্মীয় বইসহ নানা পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন- কাজী সুমন, কাজী সিফাত, কাজী নজরুল ইসলাম, কাজী রোহান, জুনায়েদ, রায়হান, কাইয়ুম, সাজ্জাদ ও সিহাব।
জানা যায়, কোমলমতি এ কিশোরদের নামাজে আগ্রহী করতেই এ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আয়োজক কর্তৃপক্ষ। শুরুতে অনেক কিশোর এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। এর মধ্যে টানা ৪১ দিন তাকবিরে উলার সঙ্গে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতে আদায়ে সক্ষম হয় ১২ জন। রোববার সেই ১২ জনকে অনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কৃত করা হয়।
গুলনগর জামে মসজিদের ইমাম মোসলেম মিয়া জানান, পুরুস্কার ঘোষণার পর থেকে অনেক কিশোর মসজিদে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করা শুরু করে। তারা ঠিক মতো নামাজ আদায় করছে কিনা তা হিসার রাখার জন্য প্রতি ওয়াক্ত নামাজের পর হাজিরা নেওয়া হতো।
যদি কেউ কোনো ওয়াক্তে অনুপস্থিত থাকত তখন তার গণনা বন্ধ করে দেওয়া হতো। এভাবে নিয়মিত যাচাই-বাছাই ও হাজিরার ভিত্তিতে সর্বশেষ ১২ জন বিজয়ী হয়।
প্রতিযোগিতালীন তাদের শুধু নামাজই পড়ানো হয়নি। বরং সঠিকভাবে নামাজ শিক্ষা ও নামাজ সম্পর্কে জরুরি মাসয়ালাও শেখানো হয়েছে। সেই সঙ্গে তালিম-তরবিয়ত এবং নামাজের প্রতি মানুষকে আহ্বানের পাশাপাশি দ্বীনি ইসলাম সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া হয়।
স্থানীয়রা এমন উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, এ কার্যক্রম বাচ্চাদের নামাজের প্রতি আগ্রহী করে তুলেছে। আমরা বিষয়টি কিছু দিন ধরে লক্ষ্য করছি যে, ছেলেরা নামাজে নিয়মিত আসছে। তাদের পদচারণায় মসজিদ সব সময় মুখরিত থাকত।
পুরস্কারপ্রাপ্তরা তাদের অনুভূতি জানাতে গিয়ে বলেন, আমরা এ পুরস্কার পেয়ে অত্যন্ত খুশি। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে হাফেজ মাওলানা আবদুল কাইয়ুম প্রিন্সিপাল দারুস সালাম মাদরাসা মিরপুরের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন- সাদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ মোল্লা।
উপস্থিত ছিলেন, মুফতী শরিফুজ্জামান মোহতামীম নানাখী কওমিয়া মাদরাসা, মাওলানা শেখ সাদী, মাওলানা ক্বারী ইব্রাহীম, মাওলানা দাউদুর রহমান, মাওলানা আব্দুর রহমান, মাওলানা মোহাম্মদুল্লা মাহমুদ, মাওলানা রাশেদুল ইসলাম, মাওলানা হাবিবুর রহমান, মো. ইউসুফ ও মো. হাফেজ প্রমুখ।