ট্রেন লঞ্চ বিমান বন্ধ, বুধবার বন্ধ হবে বাস চলাচল

630

মিরর বাংলাদেশ: করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবিলায় গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকে ট্রেন, বিমান ও নৌযান চলাচল বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। রাজধানী ঢাকার সাথে সকল জেলায় চলাচলকারী ট্রেন, বিমান ও নৌযান চলাচল বন্ধ থাকবে। আজ থেকে বাস চলাচল বন্ধ হবে।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে রেলভবনে এক জরুরি সাংবাদিক সম্মেলনে রেলপথ মন্ত্রী মো: নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, ‘করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে আজ সন্ধ্যার পর থেকে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। তবে এ সময় মালবাহী ও তেলবাহী ট্রেন সীমিত পরিসরে চলাচল করবে।’
এদিকে, করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগামী ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সারাদেশে গণপরিবহন চলাচল বন্ধ থাকবে। সকালে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ভিডিও বার্তায় গণপরিবহন বন্ধের ঘোষণা দেন।
বার্তায় তিনি বলেন, দেশের মানুষ, যাত্রীসাধারণ, গাড়ির মালিক শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্ট সবার জ্ঞাতার্থে জানানো যাচ্ছে আগামী ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সারাদেশে গণপরিবহন লকডাউন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, ওষুধ, জরুরি সেবা, জ্বালানি, পচনশীল পণ্য পরিবহনে এ নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে। পণ্যবাহী যানবাহনে কোনও যাত্রী পরিবহন করা যাবে না।
এছাড়াও করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সরকারের সিদ্ধান্ত মোতাবেক গতকাল মঙ্গলবার থেকে যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে সীমিত আকারে ফেরি চলাচল করবে। মঙ্গলবার সচিবালয়স্থ অফিস থেকে এক ভিডিও বার্তায় এসব তথ্য জানান নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি বলেন, করোনাভাইরাস মোকাবিলায় লঞ্চসহ যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল করবে না। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কার্গোর মাধ্যমে পরিবহন করা হবে। অ্যাম্বুলেন্স বা প্রয়োজনীয় যান পারাপারের জন্য ফেরি সীমিত আকারে চলাচল করবে। ফেরিতে সাধারণ মানুষ পারাপারের ক্ষেত্রে নিষধাজ্ঞা থাকবে।
এদিকে, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ নভেল করোনাভাইরাসের ব্যাপক সংক্রমণ ঠেকাতে আজ মধ্যরাত থেকে দেশের অভ্যন্তরীণ রুটে বিমানের সব ফ্লাইটও বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মহিবুল হক বলেন, মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে দেশের সব অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর বন্ধ থাকবে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে।


দেশব্যাপী করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ ছড়িয়ে পড়ায় সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। আর এই ঘোষণার পর সার্বিক পরিস্থিতি ঝুঁকির মুখে ফেলে ঢাকা ছাড়তে শুরু হরেছে হাজারো মানুষ। রাজধানীর বিভিন্ন বাস টার্মিনাল ও কাউন্টারগুলোতে দেখো গেছে উপচে পড়া ভিড়। এই সুযোগে বাড়ানো হয়েছে গাড়ির ভাড়াও।
মঙ্গলবার রাজধানীর কয়েকটি বাস টার্মিনাল সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকদের নানা অনিয়ম আর অরাজকতার চিত্র।
রাজধানীর গাবতলি বাস কাউন্টার ঘুরে দেখা গেছে, বাসগুলো অতিরিক্ত যাত্রী বহনের পাশাপাশি নিচ্ছেন অতিরিক্ত ভাড়াও। বিভিন্ন রুটে আসনপ্রতি দুইশ থেকে তিনশ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে যাত্রীদের কাছ থেকে।
গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে পাটুরিয়া ফেরি ঘাটের বাস ভাড়া জনপ্রতি ১০০ টাকা হলেও আজ নেওয়া হচ্ছে ৪০০ টাকা করে। পাটুরিয়াগামী যাত্রী আকাশ জানান, আজকে বাড়ি যাওয়ার জন্য অনেক খুঁজের কোনো চেয়ার কোচের টিকিট পাইনি। বাধ্য হয়ে ১০০ টাকা ভাড়া ৪০০ টাকা দিয়ে পাটুরিয়া ঘাটে যাচ্ছি। ঘাট পার হয়ে অন্য কোনো গাড়িতে বাড়ি যাব।’
ভাড়া বেড়েছে এসি, ননএসি, চেয়ার কোচসহ সব ধরনের গাড়িতে। যারা বাড়ি যাওয়ার পণ করে বেরিয়েছে তারা যেতে চান যে কোনো মূল্যে। তাই অতিরিক্ত টাকায়ও টিকিট কাটছেন তারা।
১০ দিনের ছুটিতে বাড়ি ফেরার ভিড় ছিল রাজধানীর শ্যামলী, কল্যাণপুর, গাবতলীসহ অন্যান্য কাউন্টারগুলোগুলোতেও।
ঢাকা-রংপুর রুটের যাত্রী রুস্তম খান জানান, বাসের কাউন্টারগুলোতে গেলে বলছে কোনো টিকিট নেই। যেটা আছে, সেখানে বাড়তি ২ শ থেকে ৩ শ টাকা করে বেশি দিতে হবে না হলে টিকিট দিচ্ছে না। এ মুহূর্তে কিছুই করার নেই। তাই বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত দামে বাসের টিকিট কাটলাম।’
এ বিষয়ে শ্যামলী পরিবহনের টিকিট মাস্টার নাম প্রকাশ না করা শর্তে জানান, গত দুই দিন ধরে টিকিটের ক্রাইসিস চলছে। আমরা যে কয়টা নিজে কিনে রেখেছি সেগুলোই একটু বেশি দামে বিক্রি করছি। শুধু আমি একা নয়, সবাই বেশি দামে বিক্রি করছে।