ডিএনডি প্রকল্পের ব্যয় বেড়েছে মেয়াদও বেড়েছে

645

ছবি : রোববার ডিএনডি এলাকায় নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ণ প্রকল্প (২য় পর্যায়) উদ্ভোধন করেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক ।

* ৫৫৮ কোটি টাকার প্রকল্প কাজ বেড়ে ১৩শ কোটি টাকা ধরা হয়েছে
* ২০২১ সালের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে : পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী

মুহা: ইউসুফ আল আজিজ : ২০ লাখ লোকের জলাবদ্ধতার দূর্ভোগ লাগবের জন্য নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) প্রকল্প নেয়া হয় ২০১৬ সালে। ২০১৬ সালের ৯ আগস্ট একনেকের সভায় ৫৫৮ কোটি টাকার এই মেগা প্রকল্প পাস হয়। কথা ছিল ২০২০ সালের মধ্যে কাজ শেষ হবে । পানিবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাবে ডিএনডিবাসী। ২০১৭ সালের ৯ই ডিসেম্বর প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ে শেষ হচ্ছে না ডিএনডি প্রকল্প কাজ। বরং বেড়েছে প্রকল্পের মেয়াদ সাথে বেড়েছে প্রকল্প ব্যয়। যার ব্যয় ধরা হয় ৫৫৮ কোটি টাকা তা এখন বেড়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে ১৩ শত কোটি টাকা সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে।
রোববার সকালে সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইলে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) এলাকায় নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ণ প্রকল্প (২য় পর্যায়) শীর্ষক প্রকল্পের পাম্প স্থাপনের উদ্ভোধন করতে এসে এমনটাই জানালেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান, পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের সচিব কবির বিন আনোয়ার, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার ইন চীফ মেজর জেনারেল ইবনে ফজল শায়েখুজ্জামান, ২৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনষ্ট্রাকশন বিগ্রেডের ডিজি বিগ্রেডিয়ার এফ এম জাহিদ হোসেন, ১৯ ইসিবি অধিনায়ক লে: কর্ণেল আহসানুল তাকদ্বীম চৌধুরী, প্রকল্প পরিচালক লে: কর্ণেল মাসফিকুল আলম ভুঁইয়া ও প্রজেক্ট অফিসার মেজর সৈয়দ মোস্তাকিম হায়দার প্রমূখ।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ডিএনডি প্রকল্পটির মেয়াদ আরো একবছর বৃদ্ধি করা হয়েছে। ২০২১ সালের মধ্যে এই প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। ২০ লাখ লোকের জলাবদ্ধতার দূর্ভোগ লাগবের জন্য এ প্রকল্পের কাজ হাতে নেয়া হয়। পরবর্তীতে ২০১৭ সালের ৯ই ডিসেম্বর প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। যার ব্যয় ধরা হয় ৫৫৮ কোটি টাকা।
তিনি বলেন, পরবর্তীতে দেখা যায় এর ব্যয় আরো বেড়ে গেছে। কারণ এই প্রকল্পের ভিতরে অবৈধ স্থাপনা, মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল, গ্যাস লাইন, বিদ্যুৎ ও পানির লাইন রয়েছে। যা সড়াতে অতিরিক্ত ব্যয় বেড়েছে। এখন ধারনা করা হচ্ছে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে ১৩ শত কোটি টাকা লাগবে। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে ২০ লাখ মানুষের জলাবদ্ধতার দূর্ভোগ লাগব হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, হাতিরঝিলের চেয়ে অনেক বড় প্রকল্প এখানে হবে। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে যে খালগুলো খনন ও পরিস্কার করা হয়েছে তা আবার ময়লা পানি ও আবর্জনায় ভরে যাচ্ছে। এ পর্যন্ত তিন বার এ কাজটি করা হয়েছে। এতে ব্যয় আরো বেড়ে যাচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) প্রকল্পটি ১৯৬২-১৯৬৮ সালে গ্রহণ করা হয়। পরবর্তীতে যখন নগরায়ন শুরু হয় তখন লোকজন অবৈধভাবে স্থাপনা তৈরী করে, অবৈধভাবে ডিএনডি ও কৃষিজ জমি দখল করে অবৈধ স্থাপনা করায় অত্র এলাকায় জলাবদ্ধতা শুরু হয়। পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমানের উদ্যোগ ও চিন্তাধারায় এ প্রকল্পের কাজ পুনরায় শুরু করা হয়। নারায়ণগঞ্জবাসী ভাগ্যবান শামীম ওসমানের মত একজন এমপি পেয়ে। যিনি সর্বক্ষণ জনগনের কথা চিন্তা করেন।
এসময় মন্ত্রী এলাকাবাসীর কাছে আবেদন করে বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য দায়িত্ব দেয়া হয়েছে সেনাবাহিনীকে কিন্তু কাজ করতে গিয়ে অনেক প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছে। এই প্রতিবন্ধকতা দূর করতে হলে এলাকাবাসীকে এগিয়ে আসতে হবে। আপনাদের সহযোগিতা ছাড়া এ প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।
জানা যায়, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ নানা জটিলতায় পড়ে। এ পর্যন্ত প্রকল্পের প্রায় ৫৪ ভাগ শেষ হয়েছে। তবে নানা জটিলতার কারণে বাকি কাজ শেষ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে আরডিপিপি (পুনঃপ্রকল্প প্রস্তাব) একনেকে পাস করানো নিয়ে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, প্রস্তাবিত আরডিপিপি’র ফাইলটি পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে যেতেই সময় লেগেছে প্রায় ১৪ মাস। ফলে ডিএনডি’র পুনঃউন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (আরডিপিপি) দ্রæত একনেকে পাস না হলে ডিএনডিবাসীর স্বপ্নের এই প্রকল্প মুখ থুবড়ে পড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে কয়েক যুগ দখলে থাকা ডিএনডি এলাকার প্রায় ৮৯ কিলোমিটার উদ্ধার হওয়া খাল এবং নতুন করে খনন করা খালগুলো আবারও বেদখল হয়ে যাবে।
সাংসদ শামীম ওসমান বলেন, এই কাজটি পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের কাজ নয়। কোন মন্ত্রনালয় সাহস করে এ কাজটি নিতে চায়নি। আমি বলতে বলতে একপর্যায়ে তৎকালীন পানি সম্পদ মন্ত্রী আনিসুল হককে বলি ২০ লাখ মানুষের দুর্ভোগ লাগব করতে না পারলে হয় আমি রিজাইন করব না হয় আপনাকে রিজাইন করতে হবে। যে এলাকার মানুষ দুর্ভোগে থাকে সে এলাকার এমপি থাকার আমার দরকার নেই।
তিনি বলেন, সেনাবাহিনী ও পানি উন্নয়ন বোর্ড যেভাবে কাজটি করছেন এবং যেভাবে প্রকল্পটি নিয়ে চিন্তা করছেন আমার মনে হচ্ছে তারাই নারায়ণগঞ্জের স্থায়ী বাসিন্দা।