তৃনমুল থেকে উঠে আসা একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নুরউদ্দিন চৌধুরী নয়ন এমপি

437

মিরর ডেস্ক : একজন সফল রাজনৈতিক নেতা, লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুরউদ্দিন চৌধুরী নয়ন। লক্ষ্মীপুর-২ আসনের উপ নির্বাচনে জয় পেয়ে তিনি আজ হয়েছেন জননেতা। লক্ষ্মীপুর জেলায় স্থানীয় পর্যায়ে রাজনীতি তিনিই এমপি হয়েছেন। সততা, দক্ষতা আর নিজের সংকল্পের প্রতি একাত্বতাই তাকে আজ এই পর্যায় নিয়ে এসেছে বলে মনে করছেন দলীয় তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

তবে এই সফলতার পিছনে দলীয় নেতাকর্মীদের অবদানের কথা তুলে ধরে এই সাংসদ বলেন, নেতাকর্মীদের ভালবাসায় আজ আমি এতদূর। তাদের পরিশ্রম ও ত্যাগের কথা আমি কখনো ভুলতে পারবো না। জননেতা বানানোর জন্য নেতাকর্মীরা অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে যেভাবে আমাকে সমর্থন করে সাহস যুগিয়েছে তাতে আমি মুগ্ধ। তাদের পরিশ্রমে আজকে আমি নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হতে পেরেছি।

তিনি বলেন, আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি দলকে সামনে এগিয়ে নেয়ার। আমার বিশ্বাস ছিলো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মনোনয়ন দিবেন। তিনি আমার উপর আস্থা রেখেছেন।প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞ, তিনি আমাকে নৌকা প্রতীক উপহার দিয়েছেন। আমি প্রধানমন্ত্রীর আস্থার প্রতিদান দেয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো। কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা দেখিয়েছেন। পাশাপাশি লক্ষ্মীপুর-২ (লক্ষ্মীপুর-রায়পুর) আসনের উপনির্বাচনে নৌকার বিজয়ে গত ৪ মাস যারা মাঠে কষ্ট করেছেন, বৃষ্টি ও করোনা উপেক্ষা করে ভোট দিয়েছেন এবং বিভিন্ন অবস্থান থেকে সহযোগিতা করেছেন তাদের সবাইকে ধন্যবাদ। জনগণের জন্য কাজ করে এর প্রতিদান দিবেন বলেও জানান তিনি।

লক্ষ্মীপুর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি চৌধুরী মাহমুদুন নবী সোহেল বলেন, নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন ভাই শুধু রাজনৈতিক জীবনেই সফল নয় ব্যক্তি জীবনেও তিনি একজন সফল মানুষ। রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, সময় উপযোগী সিদ্ধান্ত দুর্দিনে নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়ানো থেকে শুরু করে সব জায়গায় উনার সরব উপস্থিতি। দলের শৃঙ্খলা রক্ষা থেকে শুরু করে সামাজিক অঙ্গনে সবখানেই তিনি সমানতালে কাজ করে গেছেন। কঠোর পরিশ্রম ও সততার মাধ্যমে তিনি যেমন নেতাকর্মীদের আস্থা অর্জন করেছেন ঠিক তেমনই শেখ হাসিনার আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন।

২০১৫ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত টানা ৬ বছর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ লক্ষ্মীপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন তিনি। তার এই ৬ বছরে তিলে তিলে কর্মীদেরকে গড়ে তুলেছেন নিজের সেরাটা দিয়ে। কর্মীবান্ধব এই নেতার এক ডাকেই পঙ্গপালের মতো ছুটে আসে হাজারো নেতাকর্মী। শুধু দল নয় জনতার মাঝেও সমানতালে জনপ্রিয় এই নেতা।

রায়পুর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন মাস্টার বলেন, নুরউদ্দিন চৌধুরী নয়ন ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতি করে আসছেন। তিনি দলের একজন ত্যাগী ও পরিক্ষিত নেতা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী চিন্তার প্রশংসা করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নয়নকে মনোনয়ন দিয়ে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের আনন্দের জোয়ারে ভাসিয়েছেন। নেতাকর্মীরা উৎসাহ উদ্দিপনার মাধ্যমে নয়ন ভাইয়ের নির্বাচন করেছে এবং তাকে নির্বাচিত করেই ঘরে ফিরেছে।

তিনি আরও বলেন, নয়ন ভাই তৃণমূলেরে রাজনীতি করার কারণে দলের খুঁটিনাটি থেকে শুরু করে এই জনপদের সমস্যা-সম্ভাবনা সবকিছু সম্পর্কেই অবগত রয়েছেন। আমার বিশ্বাস উনি সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের পাশাপাশি সম্ভাবনাগুলোকে কাজে লাগিয়ে জনগণের আস্থা অর্জন করবেন। যেভাবে উনি দলের নেতাকর্মীদের পাশে ছায়া হয়ে থেকেছেন ঠিক সেভাবেই এই জনপদের জনতার ছায়া হয়ে থাকবেন।

রায়পুর পৌর আওয়ামী লীগের আহবায়ক কাজী জামশেদ কবির বাক্বী বিল্লাহ বলেন, অ্যাডভোকেট নুরউদ্দিন চৌধুরী নয়ন একজন দক্ষ সংগঠক। তিনি লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগকে করেছেন সুসংগঠিত। তার দক্ষ নেতৃত্বের কারণে এক সময় দেশব্যাপী বিএনপির ঘাটি হিসেবে স্বীকৃত এই জেলায় এখন আওয়ামী লীগের জয়জয়কার। যা সম্ভব হয়েছে দলীয় কোন্দল থেকে বেরিয়ে এসে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার মাধ্যমে। যার পুরো কৃতিত্বই এডভোকেট নয়নের। জনপ্রতিনিধি হওয়ার মাধ্যমেই তার প্রমাণ তিনি দিয়েছেন। আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি মানুষের সুখে-দুখে পাশে থেকে খুব শিগগিরই দক্ষ জননেতার পরিচয়ও তিনি দিবেন। প্রিয় এই নেতার জন্য রইলো অনেক অনেক শুভকামনা।

নুরউদ্দিন চৌধুরী নয়নের (এমপি) রাজনৈতিক জীবন :

ছাত্রলীগের মাধ্যমেই তার রাজনৈতিক জীবন শুরু। ১৯৭৮ সাল থেকে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত লক্ষ্মীপুর আদর্শ সামাদ উচ্চ বিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ১৯৮০ থেকে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত টানা তিন বছর লক্ষ্মীপুর পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি, ১৯৮৩ থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি, ১৯৮৬ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত লক্ষ্মীপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

ছাত্রলীগের রাজনীতি শেষে ১৯৮৮ সালেই যোগ দেন আওয়ামী লীগে। আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েই চমক দেখান এই নেতা। ১৯৮৮ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত লক্ষ্মীপুর পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, ১৯৯৪ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত লক্ষ্মীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, ২০০৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত লক্ষ্মীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এই নেতা। এরপর ২০১৫ থেকে এখন পর্যন্ত লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দ্বায়িত্ব পালন করছেন

তথ্যসূত্র:  দৈনিক যায়যায়দিন