দুঃখ দুর হলো ফতুল্লার অর্ধলাখ মানুষের

890

মিরর বাংলাদেশ: অবশেষে দুর্ভোগের অবসান হচ্ছে ফতুল্লার পানিবন্দী অর্ধলাখ মানুষের। গনমাধ্যমে  সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসছে কর্তৃপক্ষ। কয়েকটি শর্তসাপেক্ষে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরায় দেয়ার পর সোমবার বিকেল থেকে পানি নিষ্কাশন শুরু হয়। তিনটি পাম্পের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশন কাজ চলছে।
শুষ্ক মৌসুমে ফতুল্লার লালপুর এলাকার অর্ধলাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছিল। নিত্যব্যবহার্য পানি আর তিনটি ডায়িংয়ের বিষাক্ত ময়লা পানিতে পুরো এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় পানি সরে যাওয়ার কোনো উপায় ছিল না। সারা বছর যে তিনটি মোটরে এখানকার পানি নিষ্কাশন চলত কয়েক বছর বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় সেগুলোর সংযোগ কেটে দেয় ডিপিডিসি। এরপর থেকে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহায় এখানকার বাসিন্দারা।
গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিন দেখা গেছে, ফতুল্লা ইউনিয়নের লালপুর, পৌষার পুকুরপাড়, টাগারপাড়, গাবতলিসহ বিভিন্ন এলাকার জলাবদ্ধতা কমতে শুরু করেছে। ফতুল্লার বটতলা রেললাইন এলাকায় শফিউদ্দিন আহমেদ বাদল রোডে বসানো তিনটি পাম্পে চলছে পানি নিষ্কাশন। পানিতে ডুবে যাওয়া রাস্তাঘাট, বাসাবাড়ি, দোকান ও প্রতিষ্ঠান থেকে পানি সরে যাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত তিন বছরে বিদ্যুৎ বিল বকেয়া হয়ে পড়ে ৫০ লাখ টাকা। ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ছয় লাখ টাকা বিদ্যুৎ বিল পরিষদ করলেও বকেয়া ৪৪ লাখ টাকার জন্য বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। ফলে দেড় মাস ধরে পানিবন্দী হয়ে পড়ে অর্ধলাখ মানুষ। এ নিয়ে শুক্রবার নয়া দিগন্তে একটি তথ্যবহুল সংবাদ প্রকাশিত হয়।
ফতুল্লার বাসিন্দা কবি রণজিৎ মোদক  বলেন, দেড় মাস ধরে মানুষ নিদারুণ কষ্টে ছিল। সংবাদ প্রকাশের পর অবশেষে মানুষের কষ্টের অবসান হচ্ছে।
লালপুরের বাসিন্দা মিনহাজ আলী জানান, দীর্ঘ দিন এই এলাকার রাস্তাঘাট নোংরা ও ডাইং কলখারখানার গরম পানিতে ডুবে ছিল। রাতে রাস্তা খুঁজে পাওয়াও কঠিন ছিল। এতে চরম দুর্ভোগে ছিল স্কুল কলেজ পড়–য়া শিক্ষার্থী ও দোকানি। পত্রিকায় খবর প্রকাশ হওয়ার পর এলাকার চেয়ারম্যানরা এটি নিয়ে কাজ করেছেন। মোটর বসিয়েছেন। তাই পানি নেমে যাচ্ছে।

সূত্র : নয়াদিগন্ত