নাড়ির টানে ছুটছে মানুষ

39
সদর ঘাট লঞ্চ টার্মিনালে যাত্রীদের ভিড়

মিরর বাংলাদেশ : ঈদ করতে হবে আত্মীয় স্বজনদের সঙ্গে গ্রামের বাড়িতে। তাই যেকোন মূল্যে যেতে হবে। সেটা গাড়িতে বিমানে কিংবা লঞ্চে। হতে পারে ট্রাকের পিছে কিংবা ট্রেনের ছাদে। কুরবানীর ঈদের আর বাকী মাত্র দুইদিন। অবশ্য ঈদযাত্রা শুরু হয়েছে আরও দু-এক দিন আগেই। তবে বৃহস্পতিবার শেষ কর্মদিবসে এই যাত্রা গতি পায়। বিকেল থেকে গন্তব্যে ছুটতে শুরু করেন কর্মজীবীরা। রাতভর রাজধানী ঢাকা ছেড়েছে মানুষ, শুক্রবার সকালে যেন ঈদযাত্রা ফিরেছে চিরচেনা রূপে। নগরীর গাবতলী, সায়েদাবাদ, কমলাপুর, সদরঘাটসহ বেশ কিছু এলাকায় ঘরে ফেরা মানুষের ভিড় উপচে পড়ছে। শুক্রবার সকাল থেকে পরিবার-স্বজনদের নিয়ে বাড়িফেরা মানুষের চাপে রাজপথ। বাড়তি যাত্রীতে গতি কমে এসেছে গাড়ির চাকারও।
এরই মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে সব সরকারি অফিস আদালত। বন্ধ হয়ে গেছে অধিকাংশ বেসরকারি অফিসও। ছুটি পেয়ে পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে গ্রামের বাড়ির দিকে ছুটছেন সবাই। সাধারণত ঈদ এলেই ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনে উপচে পড়া ভিড় থাকে। সেই কারণে নিজ গন্তব্যের ট্রেনে উঠতে খুব বেগ পোহাতে হয়। রীতিমতো যুদ্ধ করে ট্রেনে উঠতে পারলেও অতিরিক্ত ভিড়ে নিজের সিট পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেন না অনেকে।
গাবতলী দিয়ে রাজধানী, গাজীপুরসহ বেশ কিছু এলাকার যাত্রী ঢাকা ছাড়ছেন। টার্মিনালে একের পর এক বাস ছাড়ছে। তবু যেন গাড়ির সংকট। যাত্রী নামিয়ে গাড়ি ফিরে আবার যাত্রী নিয়ে যাচ্ছে। যাত্রীরা বলছেন, গণপরিবহনে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি ভাড়া নেয়া হচ্ছে। অতিরিক্ত যাত্রীর চাপে গাড়িও চলছে ধীরগতিতে।
পাটুরিয়া দিয়ে রাজবাড়ী যাবেন আওলাদ ইসলাম। গাবতলীতে পরিবার নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন তিনি। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘ডাইরেক্ট টিকিট কাটিনি। মানুষের ভিড় অনেক। লোকাল বাসে ঘাটে গিয়ে পরে নদী পার হয়ে আবার কোনো গাড়িতে যাব। তবে এখানে ভাড়া বেশি নেয়া হচ্ছে। চাপ বেড়েছে সায়েদাবাদেও। পদ্মা সেতু হয়ে গাড়ি যাওয়ায় এই টার্মিনালে ভিড় বেড়েছে। কেউ কেউ অভিযোগ করছেন, নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে ভাড়া বেশি নেয়া হচ্ছে। সময়মতো ছাড়ছে না গাড়িও। গত কদিন সদরঘাট লঞ্চঘাটে ভিড় কম থাকলেও রাত থেকে আবার আগের রূপে ফিরেছে দক্ষিণবঙ্গে যাওয়া যাত্রীদের এই নৌরুট। চারদিকে শুধু মানুষ আর মানুষ। পরিবার নিয়ে বাড়ি ফিরছেন অধিকাংশই।
কমলাপুরে মানুষের ভিড় অন্য ঈদগুলোর মতোই। পুরো স্টেশন এলাকা ভরে গেছে যাত্রীতে। রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাড়ি ফিরতে এখানে ভিড় করেছে মানুষ। নাড়ির টানে ঘরে ফিরছে সবাই।
এদিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘সড়কে চাপ আছে, যানজট নেই। সড়কে চাপ হবে। তবে রাস্তার জন্য যানজট হয়নি।
গতকাল শুক্রবার ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-টাঙ্গাইল এবং ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে যানজট পরিলক্ষিত হয়েছে । এসব সড়কে যানজটের কারণে যাত্রীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে বাধ্য হচ্ছেন। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর থাকলেও ব্যাপক গাড়ির চাপ এবং পর্যাপ্ত সড়ক ব্যবস্থাপনার অভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়ছে। যাত্রীদের অভিযোগ, কিছু অসাধু পরিবহন মালিক ও চালকরা এই সুযোগে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। অনেকেই বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে রওনা দিচ্ছেন।
রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালেও দেখা গেছে ঘরমুখো মানুষের ভিড়। পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে নদীপথে ঢাকা ছাড়ছেন মানুষ। আর চাঁদপুর, শরীয়তপুর, বরিশাল ও ভোলা যাওয়া জন্য ঘাটে দাঁড়িয়ে আছে সারি সারি বিলাসবহুল লঞ্চ। এসব লঞ্চগুলোর কেবিন খালি নেই, ডেকেও দেখা গেছে যাত্রীদের ভিড়। পদ্মা সেতু দিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের অনেক মানুষ বাড়ি ফিরছেন।
মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে আগামী ১৭ জুন (সোমবার)। এ উপলক্ষে আগামী সপ্তাহের রবি, সোম ও মঙ্গলবার থাকবে সরকারি ছুটি।