নারায়ণগঞ্জে কোরবানীর টার্গেট ১ লাখ ৬৬ হাজার ৮৪০ পশু

168
সিদ্ধিরগঞ্জে আরকে এ্যাগ্রা ফার্মের কোরবানীর পশু দেখছেন ক্রেতারা। ছবিটি বুধবার তোলা

খামারে আগাম গরু বুকিং দিতে ছুটিছেন কোরবানিদাতারা

মিরর বাংলাদেশ : ঈদের এখনো প্রায় এক মাস বাকি, এরই মধ্যে নারায়ণগঞ্জে কেনাবেচা শুরু হয়েছে কোরবানির পশু। তবে এসব পশু কোরবানির হাটে নয় বিভিন্ন খামারে গিয়ে নিজেদের পছন্দ মতো পশু কিনে রাখছেন ক্রেতারা। খামার থেকে ঈদের এক-দুই দিন আগে কোরবানির পশু পৌঁছে যাবে ক্রেতার কাছে। ফলে নারায়ণগঞ্জের গরুর খামারগুলোয় এখন প্রতিদিনই ভিড় বাড়ছে ক্রেতাদের। কোরবানীর পশু বিক্রির জন্য পুরোদমে প্রস্তুতি শুরু করেছে নারায়ণগঞ্জের খামার মালিকরা। জেলা প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তর জানিয়েছে, নারায়ণগঞ্জে এবারের কোরবানীর ঈদে পশুর চাহিদা রয়েছে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৮৪০।
কোরবানির হাটে গিয়ে পশু কেনার ঝামেলা এড়াতে আগাম পশু কিনে রাখছেন এমনটাই জানালেন সিদ্ধিরগঞ্জে আরকে অ্যাগ্রো ফার্মে আসা ক্রেতা ইউসুফ আব্দুল আজিজ। তিনি  জানান, কোরবানি হাটে গিয়ে গরু কেনার ঝামেলা অনেক। তাই আগেভাগেই এখানে এসে গরু কিনে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পছন্দ হলে গরু কিনে রেখে দিবো। ফার্মের মালিকপক্ষ ঈদের আগে আমাদের গরু পৌঁছে দিবেন।
একই খামারে কোরবানীর পশু কিনতে আসা জালকুড়ি এলাকার বাসিন্দা পিন্টু দেওয়ান জানান, কোরবানীর ঈদের একমাস বাকী তবে আমরা পছন্দের গরু আগেভাগে দেখে রাখার জন্য এসেছি। গরু পছন্দ হলেই বুকিং দিয়ে যাবো।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জে কৃষক ছাড়াও বড় শিল্পপতিরা গরু, মহিষ ও ছাগলের খামার গড়ে তুলেছেন। কোরবানির ঈদকেন্দ্রিক ছাড়াও বেশির ভাগ খামারে সারা বছর চলে পশু বেচাকেনা। তবে এক বছরের প্যাকেজে অনেক খামারে পশু মোটাতাজা করা হয়।
একাধিক খামারীর সাথে আলাপ করে জানা গেছে, এবারের কোরবানীর পশুর দাম আগের চাইতে শতকরা ২০ ভাগ বেশী হতে পারে। কারন হিসেব তারা জানান, গো খাদ্যের মূল্য বেশি। এছাড়া অন্যান্য খরচ বেড়েছে তাই পশুর মূল্য বাড়তে পারে বলে জানান তারা।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার অফিস সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জে পাঁচটি উপজেলায় প্রায় ১০ হাজার খামারি রয়েছেন। তাদের মধ্যে সাড়ে তিন হাজার রেজিস্টার্ড ও বাকিগুলো মৌসুমি খামারি। এই খামারগুলোতে প্রায় ৬০ হাজার গরু-মহিষ ও ৪০ হাজার ছাগল-ভেড়া পালন করা হচ্ছে। এর মধ্যে থ্রিস্টার ফার্ম হাউজ, আরকে অ্যাগ্রো, আমানা ক্যাটেল, তানিয়া ক্যাটেল, খন্দকার ক্যাটেল, ছায়েদ আলী অ্যাগ্রো ও প্রার্থনা অ্যাগ্রো অন্যতম। জেলার বন্দর, সোনারগাও, আড়াইহাজার, রুপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জসদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে এসব পশুর খামার।
কয়েকটি খামার ঘুরে দেখা গেছে, ঈদকে সামনে রেখে খামারিরা সর্বশেষ পরিচর্যায় ব্যস্ত রয়েছেন। খামারের কর্মীরা কেউ গরুকে খাবার দিচ্ছেন, কেউবা গোসল করাচ্ছেন, আবার কেউ গরম থেকে বাঁচাতে পশুগুলোকে পাইপ দিয়ে পানি ছিটাচ্ছেন। খামারগুলোতে অনেক ক্রেতা সরেজমিনে পরিদর্শন করে দরদাম করছেন। কেউ বা ওজনে কেনার জন্য আগ্রহী হচ্ছেন। আবার কেউ ঠিকা ক্রয় করতে চাচ্ছেন।
খামারিরা জানান, গরুকে খৈল, ভুসি, সাইলেজ, ভুট্টা ও ঘাস খেতে দেয়া হয়। কোনো ধরনের রাসায়নিক খাবার, হরমোন কিংবা ইনজেকশন দেয়া হয় না। তবে গোখাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় তাদের বেশ বিপাকে পড়তে হচ্ছে।
সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল আরকে অ্যাগ্রো ফার্মের ম্যানেজার আব্দুস ছামাদ  জানান, এবারের গো খাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় পশুর দাম শতকরা ২০ ভাগ বেশি হতে পারে। তিনি জানান, দেশি গরু ৯০ হাজার টাকা থেকে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। বিদেশী গরু ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এবার দাম একটু বেশি হওয়ায় ক্রেতার সমাগম আপতত কম। তবে সামনে হয়তো বাড়বে। আমাদের প্রায় ২০ ভাগ গরু এরই মধ্যে বুকিং হয়েছে ।
দেলপাড়া এলাকার একটি খামার মালিক মঞ্জু মিয়া বলেন, আমাদের খামারে ৪০টা গরু ছিল। এরই মধ্যে প্রায় অর্ধেক গরু বিক্রি হয়ে গেছে। খামারে সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা দামের গরু আছে। আর সর্বনিম্ন আছে আড়াই লাখ টাকার গরু।
দাম প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ভুইগড় এলাকার একজন খামারি বলেন, এবার ঈদে দামটা মনে হয় একটু বেশিই থাকবে। গত ঈদে যে গরু চার লাখে বিক্রি হয়েছে, এটা কিনতে এবার ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা বেশি লাগবে। তবে, শেষ সময়ে দামটা আবার কমেও যেতে পারে। যদি শেষ সময়ে ভারত থেকে গরু আসা শুরু করে, তাহলে হয়তো দাম অস্বাভাবিক কমে যাবে। সেরকম কিছু হলে দেশি ব্যবসায়ীরা লোকসানে পড়ে যেতে পারেন।
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা, মুহাম্মদ ফারুক আহমেদ গতকাল বুধবার বিকেলে জানান, নারায়ণগঞ্জে এবারের কোরবানীর ঈদে পশুর চাহিদা ১ লাখ ৬৬ হাজার ৮৪০। তবে জেলার পশু দিয়ে কোরবানীর চাহিদা পূরন হবে না । এ ঘাটতি পূরনের জন্য পশু আমদানী করতে হবে।
তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জের খামার গুলোতে জেলা প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের নজরদারী রয়েছে। এছাড়া কোরবানীর হাট বসা শুরু হলে সেখানেও বিভিন্ন ভেটেনারীর টিমসহ বিভিন্ন কার্যক্রম চালু রাখবে জেলা প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর।
ডা, ফারুক আরো বলেন, কোরবানীকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন স্থানে খামারিদের সাথে উঠান বৈঠক করা হচ্ছে। কসাই, মওসুমী কসাইদের প্রশিক্ষন দেয়া হচ্ছে। পশু মোটাতাজা করনে যেন ক্ষতিকর কোন ক্যামিকেল ব্যবহার না করে সেজন্য খামারিদের সর্তক করে দেয়া হয়েছে।