পরিবহন সেক্টরে শ্রমিক কল্যাণ ফান্ডের নামে তোলা চাঁদা কোথায় গেলো ? -সেলিম ওসমান, তদন্ত দাবী

770

মিরর প্রতিনিধি নারায়ণগঞ্জ
পরিবহন সেক্টরে শ্রমিক কল্যাণ ফান্ডের নামে চাদাবাজির টাকা কোথায় গেছে এমন প্রশ্ন তুলেছেন নারায়ণগঞ্জ ৫ আসনের সাংসদ বিকেএমইএর সভাপতি একে এম সেলিম ওসমান। শনিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ কলেজে মাঠে শ্রমিক নেতাদের মাধ্যমে ২৭০০ পরিবারের মাঝে ৫৪ হাজার কেজি চাল বিতরনের পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এ প্রশ্ন রাখেন।
সেলিম ওসমান শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে বলেন,পরিবহন বন্ধ থাকায় মানুষ আপনাদের গুরুত্ব বুঝতে পারছেন। কিন্তু আমি হতবাক হয়েছি আপনারা গাড়িতে উঠার আগেই আপনাদের সমিতির নেতারা একটা চাঁদা আদায় করতেন শ্রমিকদের কল্যানের নামে। আজকে সেই বিশাল অংকের টাকা কোথায়? কেন আপনাদের পাশে তাঁরা দাড়ালেন না।
তিনি বলেন, যদি ঈদের আগে শ্রমিকদের সন্তষ্ট না করা হয় তাহলে এই বিষয়টি দুদকের মাধ্যমে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আর শ্রমিকদের মাধ্যমেই পরিবহন গুলো পরিচালিত হবে।
সেলিম ওসমান বলেন, আমাদের নারায়ণগঞ্জ বাণিজ্যিক নগরী। এখানে ভাসমান মানুষের সংখ্যা বেশি। বিশেষ করে গার্মেন্টস সেক্টরে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে এসে প্রায় ২৫ লাখ শ্রমিক কর্মরত আছেন। লকডাউন ঘোষণার পর শ্রমিকেরা পায়ে হেঁটে যার যার জেলা শহরে চলে গেল। যখন বেতন দেওয়ার কথা শুনলো তখন আবার পায়ে হেঁটে নারায়ণগঞ্জে চলে আসলো।
তিনি বলেন, এই যাওয়া আসার মাঝ পথে তারা করোনা বহন করে নিয়ে আসলো। যার ফলে নারায়ণগঞ্জ করোনা ভাইরাসের রেড জোন হিসেবে ঘোষণা করা হলো। আমি গার্মেন্টস শ্রমিক ভাইদের প্রতি অনুরোধ রাখবো ঈদের ছুটিতে আপনারা নারায়ণগঞ্জ ছেড়ে অন্য কোথাও যাবেন না। আপনারা যার যার বাসায় থাকবেন। ঈদে খুব সংক্ষিপ্ত আকারে ছুটি প্রদান করা হবে।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আমরা দুটি ভাই নারায়ণগঞ্জ-৫ ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য। আমাদের দুই জনের দল ভিন্ন হলেও আমাদের মতাদর্শ এক, আমাদের নেতা বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। শামীম ওসমান এবং আমি পরামর্শ করে একে অপরের সহযোগীতা এবং দিক নির্দেশনা মোতাবেক সাধ্যমত জনগনের পাশে থাকার চেষ্টা করে চলেছি।
বন্দর ও নবীগঞ্জ খেয়াঘাটের মাঝিদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বর্তমানে গার্মেন্টসগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ বন্দর থেকে নারায়ণগঞ্জে যাতায়াত করছে। এতোদিন যা হয়েছে সেটা হয়ে গেছে এখন থেকে আপনারা কোন অবস্থায় নৌকায় বাড়তি চাপ নিবেন না।
তিনি বলেন, আপদকালীন সময়ে আপনারা প্রতিজন যাত্রী থেকে ৫ টাকা করে ভাড়া নিবেন আর ৮জনের বেশি যাত্রী তুলবেন না। অফিস টাইমে ১০জন যাত্রী নিবেন। আর বন্দর সেন্ট্রাল খেয়াঘাটে আজ থেকে ট্রলার গুলো চালু করা হবে এবং প্রতিবছরের ন্যায় পবিত্র রমজান উপলক্ষ্যে ঈদের দিন পর্যন্ত ট্রলার গুলো ফ্রি পারাপারের ব্যবস্থা করবে। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল, জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক আবুল জাহের, মহানগর আওয়ামীলীগের নেতা এহসানুল হাসান নিপু, ১২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শওকত হাশেম শকু, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি জুয়েল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহম্মেদ দুলাল প্রধান, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাফায়েত আলম সানি, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আশরাফুল ইসলাম রাফেল প্রমুখ।