পোল্ট্রি মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড পেলেন ১৯ সাংবাদিক

156

মিরর বাংলাদেশ : পোল্ট্রি শিল্পের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে সংবাদ প্রতিবেদন করা ১৯ জন পেশাগত সাংবাদিকদের কাজের স্বীকৃতি, মূল্যায়ন ও তাঁদের নিষ্ঠার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ‘পোল্ট্রি মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড ১৯’ দিয়েছে বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি)।

রোববার  জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ভোরের কাগজের মরিয়ম সেঁজুতিসহ গণমাধ্যমকর্মীদের হাতে ক্রেস্ট, সার্টিফিকেট ও প্রাইজমানি তুলে দেওয়া হয়।

পোল্ট্রি মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডে জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদপত্রের ৯ জন, টেলিভিশনের ৬ জন, অনলাইন ও ম্যাগাজিনের ৪ জনসহ মোট ১৯ সংবাদ প্রতিবেদককে বিজয়ী হিসেবে পুরস্কার প্রদান করা হয়। পোল্ট্রি মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড চতুর্থবারের মত আয়োজন করে বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাষ্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি), সহযোগিতায় ছিল এসিআই এনিম্যাল হেল্থ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। বিশেষ অতিথি ছিলেন- মন্ত্রণালয়ের সচিব রওনক মাহমুদ এবং সম্মাননীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. আব্দুল জব্বার শিকদার, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. কাজী শামস আফরোজ এবং বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মো. আব্দুল জলিল।

জুরি বোর্ডের সদস্য হিসেবে ছিলেন, দৈনিক প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক, আব্দুল কাইয়ুম মুকুল, টিভি টুডে’র এডিটর ইন চিফ মনজুরুল আহসান বুলবুল, দৈনিক যুগান্তর সম্পাদক সাইফুল আলম, দৈনিক ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত এবং যমুনা টিভি’র বিজনেস এডিটর সাজ্জাদ আলম খান তপু।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর কথা স্মরণ করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, দেশ অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে চলেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশের কাতারে অচিরেই যুক্ত হতে যাচ্ছে। মাথাপিছু আয় বেড়েছে, কোভিড মহামারি সত্ত্বে ও বেড়েছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ।

মন্ত্রী বলেন, ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত দেশ গড়তে হলে আমাদের দরকার স্বাস্থ্যবান ও মেধাবি জাতি। তাই সবার জন্য পুষ্টি নিশ্চিত করতে হবে, বাড়াতে হবে ডিম, দুধ, মাছ, মাংসের কনজাম্পশন।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব রওনক মাহমুদ বলেন, পূর্বের তুলনায় গণমাধ্যমের কাছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের সংবাদ-মূল্য অনেক বেড়েছে। স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিষয়ক জনসচেতনা বাড়াতে গণমাধ্যম প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখছে। আমরা লক্ষ্য করেছি, কিছু দিন পর পর ডিম, দুধ, মাছ, মাংস নিয়ে অপপ্রচার মাথাচাড়া দিয়ে উঠে। এ অপপ্রচার রোধে এবং জনসচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পুরস্কার বিজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়ে বিপিআইসিসি’র সভাপতি মসিউর রহমান বলেন, বিগত কয়েক বছরে পোল্ট্রি বিষয় নিয়ে বেশকিছু ইন-ডেপথ রিপোর্ট সকলের নজর কেড়েছে। সংবাদপত্র এমনকি টেলিভিশনেও সিরিজ রিপোর্ট প্রকাশিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে ফিড তৈরি কাঁচামালের দাম ৩০-৪০ শতাংশ বেড়েছে, ফ্রেইট খরচ দ্বিগুণ হয়েছে, বিগত প্রায় একবছর ব্রয়লার খামার ও ব্রিডার ফার্মগুলোকে উৎপাদন খরচের চেয়েও কম দামে মুরগি ও বাচ্চা বিক্রি করেছে। কোভিডের ধকল কাটিয়ে উঠতে কয়েক বছর সময় লাগবে। দেশীয় চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানীর জন্যও তাঁরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাই দরকার দীর্ঘমেয়াদি কর কাঠামো এবং ২০৩০ সাল পর্যন্ত পোল্ট্রিখাতের জন্য কর অব্যাহতি সুবিধা।

ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ফিআব) এর সভাপতি বলেন, মৎস্য ও প্রাণিখাদ্যের বিএসটিআই মানসনদ নেওয়া বিষয়ক সংকট ঘণীভূত হচ্ছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর তথা মন্ত্রণালয়ের হাতে আইন ও বিধিমালা সবই আছে। মানসম্পন্ন ল্যাব আছে। তাছাড়া প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে সম্প্রতি সাভারে একটি কোয়ালিটি ল্যাবও স্থাপিত হয়েছে। সিএম সার্টিফিকেট ও নমুনা পরীক্ষা বাবদ এক একটি কোম্পানীকে ৩ বছরের একটি মেয়াদের জন্য ৫০ লাখ থেকে শুরু করে ৪ কোটি টাকা পর্যন্ত বিএসটিআই এর ঘরে জমা দিতে হবে, যার কারণে ফিডের দাম কেজিতে ৩-৪ টাকা বেড়ে যাবে ফলে বাড়বে ডিম, দুধ, মাছ, মাংসের উৎপাদন খরচ- যা বর্তমান সরকারের সাশ্রয়ীমূল্যে সবার জন্য প্রোটিন নিশ্চিত করার নীতির পরিপন্থী। তাছাড়া একটি অভিন্ন খাত দু’টি ভিন্ন ভিন্ন অথোরিটি দ্বারা সাধারনত নিয়ন্ত্রিত হয়না কারণ এতে জটিলতা বাড়ে। তাই বিষয়টির দ্রুত সমাধান হওয়া প্রয়োজন।

ফিআব সাধারণ সম্পাদক মো. আহসানুজ্জামান বলেন, পাটের ব্যাগে মৎস্য ও প্রাণিখাদ্যের মোড়কীকরণ বিজ্ঞানসম্মত নয়। এতে খাদ্যের গুণগত মান নষ্ট হয়, ছত্রাকের সংক্রমণে বিষক্রিয়াও দেখা দিতে পারে। পাটের ব্যাগের দাম পিপি ওভেন ব্যাগের চেয়ে অন্তত: ৫ থেকে ৬ গুণ বেশি। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়- বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের কাছে বিষয়টি জানিয়েছে; কিন্তু কাজ হচ্ছেনা। মোবাইল কোট, জরিমানাসহ নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। পাটের ব্যাগে মোড়কীকরণের বাধ্যবাধকতা থেকে মৎস্য ও প্রাণিখাদ্যকে মুক্ত রাখার দাবি জানান আহসানুজ্জামান।

ওয়ার্ল্ড’স পোল্ট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন-বাংলাদেশ শাখার সভাপতি আবু লুৎফে ফজলে রহিম খান বলেন, দেশিয় পোল্ট্রি শিল্প এন্টিবায়োটিক রেসিডিউমুক্ত ডিম ও মুরগির মাংসের উৎপাদন শুরু করেছে। উৎপাদন পর্যায়ে মান ও উৎকর্ষতা বিবেচনায় পোল্ট্রি শিল্প কতটা এগিয়েছে তা সরেজমিনে দেখতে সাংবাদিকদের একটি দল চলতি মাসে ফিড মিল, টেস্টিং ল্যাব এবং প্রসেসিং প্লান্ট ভিজিট করেছেন। এর আগে পোল্ট্রি ব্রিডার ফার্ম ও হ্যাচারি, কমার্শিয়াল লেয়ার ফার্ম, ব্রয়লার ফার্মেও সাংবাদিকদের নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।

বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী ও সচিবসহ জুরিবোর্ডের সদস্যবৃন্দ। ‘দৈনিক সংবাদপত্র’ ক্যাটাগরিতে প্রথম পুরস্কার পান দৈনিক ভোরের কাগজের সিনিয়র রিপোর্টার মরিয়ম সেঁজুতি, দ্বিতীয় হন দৈনিক দেশ রূপান্তরের স্টাফ রিপোর্টার আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং তৃতীয় হন দি নিউজ টুডে’র সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার মাজহারুল ইসলাম মিচেল। ‘ঢাকার বাইরে থেকে প্রকাশিত সংবাদপত্রের প্রতিবেদন’ ক্যাটাগরিতে একমাত্র পুরস্কার লাভ করেন সাপ্তাহিক চৌদ্দগ্রাম এর নির্বাহী সম্পাদক এবং দৈনিক ফেনীর সময় এর চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি মো. এমদাদ উল্যাহ।

‘টিভি ও রেডিও’ ক্যাটাগরিতে প্রথম পুরস্কার লাভ করেন, যমুনা টেলিভিশনের স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট সুশান্ত সিনহা। দ্বিতীয় হন চ্যানেল-২৪ এর কৃষি বিষয়ক প্রতিবেদক ফয়জুল সিদ্দিকী এবং তৃতীয় হন মোহনা টিভি’র স্টাফ রিপোর্টার তানজিলা নিঝুম।

বার্তা-সংস্থা/অনলাইন ক্যাটাগরিতে একমাত্র পুরস্কার পান পরিবর্তন ডটকম এর স্টাফ রিপোর্টার, বর্তমানে বৈশাখী টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার মো. তাসলিমুল আলম তৌহিদ। ‘পোল্ট্রি ও কৃষি বিষয়ক ম্যাগাজিন/অনলাইন’ ক্যাটাগরিতে একমাত্র পুরস্কার লাভ করেন এগ্রিনিউজ২৪.কম এর সম্পাদক মো. খোরশেদ আলম (জুয়েল)।

এছাড়াও ‘প্রমিজিং পোল্ট্রি রিপোর্টার্স অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেন- এনটিভি’র সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট মাকসুদুল হাসান, জাগোনিউজ২৪.কম এর বিশেষ সংবাদদাতা মনিরুজ্জামান উজ্জল, দৈনিক যুগান্তরের সিনিয়র রিপোর্টার মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী, দৈনিক ইত্তেফাক এর সিনিয়র রিপোর্টার মো. নিজামুল হক, দৈনিক জনকণ্ঠের স্টাফ রিপোর্টার রহিম শেখ, দৈনিক ইত্তেফাকের স্টাফ রিপোর্টার মুন্না রায়হান, সময় টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার কাজল আব্দুল্লাহ, ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট শাহীদ আহমেদ, দৈনিক সুপ্রভাত বাংলাদেশের চীফ রিপোর্টার ভূঁইয়া নজরুল এবং এগ্রিকেয়ার২৪.কম এর সিনিয়র রিপোর্টার মো. আবু খালিদ।

এসময় প্রথম পুরস্কার বিজয়ীদের প্রাইজমানি হিসেবে ৫০ হাজার টাকা, দ্বিতীয় বিজয়ীদের ৪০ হাজার টাকা এবং তৃতীয় পুরস্কার বিজয়ীদের ৩০ হাজার টাকার চেক প্রদান করা হয়। এছাড়া ঢাকার বাইরের দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদ, সংবাদ সংস্থা/অনলাইন এবং পোল্ট্রি ও কৃষি ম্যাগাজিন/অনলাইনের পুরস্কার বিজয়ীদের প্রত্যেককে ৩০ হাজার টাকার প্রাইজমানি এবং প্রত্যেক বিজয়ীকে ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়। ‘প্রমিজিং পোল্ট্রি রিপোর্টার্স অ্যাওয়ার্ড’ বিজয়ীদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকার প্রাইজমানি ও সনদ প্রদান করা হয়।