প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষর জালিয়াতি, ছাত্রলীগের কেন্দ্রিয় সহসভাপতি মুমিন গ্রেফতারের পর স্থায়ী বহিস্কার

843

মিরর বাংলাদেশ :  প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষর জালিয়াতি করার অভিযোগে গ্রেফতার বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি তরিকুল ইসলাম মুমিনকে সংগঠন থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়েছে।  শনিবার সন্ধ্যায় ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের এক জরুরি সিদ্ধান্ত মোতাবেক জানানো যাচ্ছে যে, সংগঠনের নীতি ও শৃঙ্খলা পরিপন্থী কার্যকলাপে জড়িত থাকায় তরিকুল ইসলাম মুমিনকে (সহ-সভাপতি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ) বাংলাদেশ ছাত্রলীগ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হলো। এ নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগে ছাত্রলীগের বর্তমান কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ থেকে ৩৩ জন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষর জালিয়াতি করার অভিযোগে বুধবার মুমিনসহ তিনজনকে ভোলা থেকে গ্রেফতার করে তেজগাও পুলিশ। তারা প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষর জালিয়াতি করে অসৎ কাজ করতেন। তাদের নামে প্রতারণা করার অভিযোগ এনে তেজগাঁও থানায় একটি মামলা করা হয়। শুক্রবার তিনজনকে চারদিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়।
এর ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি তরিকুল ইসলাম মুমিনকে ভোলা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার ভোলা সদর মডেল থানার ওসি এনায়েত হোসেন গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ভোলা সদর মডেল থানা পুলিশের সহায়তায় বুধবার রাতে ভোলার গাজীপুর রোডের বাসা থেকে মুমিনকে গ্রেফতার করে তেজগাঁও থানা পুলিশ। পরে তাকে সড়কপথে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। তবে মুমিনের পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে আটকের কথা অস্বীকার করা হয়।
মুমিন সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, রাজধানী ঢাকার কোতোয়ালি থানায় একটি জালিয়াতির মামলা দায়ের করার পরিপ্রেক্ষিতে তাকে আটক করেছে পুলিশ। ঢাকার কয়েকজন ব্যবসায়ীর থেকে প্রকল্পের কাজের তদবির করার কথা বলে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া অভিযোগ রয়েছে তরিকুল ইসলাম মুমিনের বিরুদ্ধে। এছাড়া সরকারের বিশেষ কোনও ব্যক্তির স্বাক্ষর জালিয়াতি করে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একজন অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তাকে ভিসি পদে নিয়োগ দেওয়ার নামে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে মুমিনসহ একটি চক্রের বিরুদ্ধে। সেই চক্রকে একজন মন্ত্রীর পিএস সহায়তা করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরে বুধবার রাতে তাকে আটক করা হয়।
তবে ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এনায়েত হোসেন বলেন, কোন মামলায় তাকে আটক করা হয়েছে তা জানা যায়নি। তবে তেজগাঁও থানা পুলিশ তাকে আটকের সহায়তা চাইলে ভোলা সদর মডেল থানা পুলিশের মোবাইল টিম তাদের সহায়তা করেছে। মামলাটি চাঞ্চল্যকর না হলে, করোনার মধ্যে তাকে আটকের জন্য ঢাকার পুলিশের ভোলায় আসার কথা না।