বাংলাদেশ আক্রান্ত হলে ছাড় দেওয়া হবে না : ওবায়দুল কাদের

46
ছবি : ওবায়দুল কাদের
  • মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংকট

    মিরর বাংলাদেশ : মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংকটের কারণে বাংলাদেশ আক্রান্ত হলে ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ার উচ্চারণ করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘আমরা আক্রান্ত হলে ছেড়ে দেব না। আমরা আক্রমণ করব না। তবে আমাদের প্রস্তুতি আছে।’
    গতকাল শনিবার দুপুর রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
    ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘প্রতিবেশি দেশ মিয়ানমারে অভ্যন্তরীণ সংঘাত আছে। সেজন্য আমরা যদি সাফার করি সেটা দুঃখজনক। যতক্ষণ কথা বলা যাবে আলাপ-আলোচনা করা যাবে সেভাবেই সমস্যার সমাধান করতে চাই। যুদ্ধের উস্কানি দেব না। আক্রান্ত হলে সেটার জবাব অবশ্যই দেব। আমরা প্রস্তুত। আক্রান্ত হলে ছেড়ে দেবে না।
    আমরা চক্রান্তের শিকার হচ্ছি কি না- গণমাধ্যমকর্মীদের এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমরা যুদ্ধ চাই না। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে রোহিঙ্গাদের যে স্রোত এবং মানবিক আবেদনে প্রধানমন্ত্রী সেদিন উদারভাবে সীমান্ত খুলে দিয়েছিলেন। যে কারণে তাকে মানবতার মা বলে অভিহিত করা হয়।’
    সে সময় প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে ছিলেন জানিয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘সেখানে তার একটা ছোট অপারেশন হয়। সে সময় প্রতিদিনই তিনি সরকার এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সবাইকে ফোন করতেন। আমাদের পার্টি পর্যায়েও সাবধান করে দিতেনÍকোনো অবস্থাতেই যেন আমরা কেউ কোনো উস্কানি না দেই। উস্কানি দিলে যুদ্ধ হতে পারে, অন্য পক্ষ তো বসে থাকবে না। আমাদের আকাশসীমাও তারা দুএকবার লঙ্ঘন করেছিল। তারপরও আমরা কিন্তু তখন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ধৈর্য ধরেছিলাম এবং তখন সে অবস্থাটা আর বেশি দূর এগোয়নি। যদিও রোহিঙ্গা সমস্যাটা আমাদের ওপর জেঁকে বসেছে।’
    আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আজকে দুনিয়ার বিভিন্ন সংস্থা, বড় বড় দেশগুলো আমাদের প্রশংসা করে কিন্তু এই রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনে তাদের যে সাহায্যের পরিমাণটা ছিল, সেটা কিন্তু অনেক কমে গেছে। আমাদের এমনি অর্থনৈতিক চলমান সংকটে; আমরা নিজেরাই সংকটে আছি। আমাদের নিজেদেরই দুশ্চিন্তামুক্ত হওয়ার কোনো কারণ নেই। সেখানে ১২ লাখ রোহিঙ্গা, যাদের সন্তান-সন্ততি হয়ে সংখ্যা বাড়ছে। এই বোঝাটা আমাদের জন্য একটা বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে আছে। পৃথিবীর অনেক দেশ আছে অভিবাসীরা যায়, তাদের আশ্রয় দেয়। এখানে দুনিয়ার বড় বড় দেশগুলো, যারা এ সংকট নিয়ে আজকে কথা বলে; আমাদের তো লিপ সার্ভিসের দরকার নেই। দরকার এ বোঝাটা আমাদের কাঁধ থেকে সরিয়ে নেওয়া। সার্বিকভাবে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমাদের প্রধানমন্ত্রী যেখানেই যান, তিনি সর্বাগ্রে রোহিঙ্গা প্রসঙ্গটা উত্থাপন করেন।’
    জাতিসংঘের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আজকের বিশ্বে এটা অত্যন্ত দুঃখজনক যে, জাতিসংঘের মতো প্রতিষ্ঠান নখ-দন্তহীন সংস্থায় পরিণত হচ্ছে। তাদের কথা ইসরায়েল শোনে না, বড় বড় দেশগুলো শোনে না। যখন যার যে ব্যাপারে বিরোধ আছে, সে তখন জাতিসংঘের সর্বসম্মত প্রস্তাবও নেয় না।’
    জাতিসংঘের অনুরোধের কোনো কার্যকারিতা বাস্তবে দেখা যাচ্ছে না বলেও এ সময় মন্তব্য করেন তিনি। ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমাদের প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারে অভ্যন্তরীণ কিছু সংঘাতের বিষয় আছে। ওখানে ৫৪টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী। এদের একের সঙ্গে অন্যের মিল নাই। বিশেষ করে রাখাইন এলাকার বিদ্রোহীরা প্রকাশ্যে বিদ্রোহ করে যাচ্ছে। ওদের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের জন্য আমরা যদি ক্ষতিগ্রস্ত হই, সেটা হবে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।’
    সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘জান্তা সরকারের সঙ্গে আমাদের কোনো বৈরিতা নেই। আলাপ-আলোচনার দরজা এখনো খোলা আছে। আমরা কথা বলতে পারি। যতক্ষণ কথা বলা যাবে, আলাপ-আলোচনা করা যাবে, উই আর নট ইন গুড টিউনসÍএমন পর্যায়ে না গেলে আমরা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করছি এবং করে যাব। আমাদের যুদ্ধ পরিহার করতে হবে। আমাদের কোনো উস্কানি যেন যুদ্ধের কারণ না হয়।’
    বিএনপির উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, যেকোনো সময় সরকারের পতন হবে এটা বিএনপির দিবাস্বপ্ন। সরকার পরিবর্তনের মাধ্যম হলো নির্বাচন। জনগণের ভোটে সরকার পরিবর্তন ঘটে। এখন বিষয় হলো গণঅভ্যুত্থান। তাদের নেতাকর্মীরাই এখন আন্দোলনের মানসিকতায় নেই। জনগণ না থাকলে গণঅভ্যুত্থান হয় না।
    আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, সুজিত রায় নন্দী, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাসসহ অন্যরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। ****