বিএনপি এখন জয় বাংলা স্লোগান দিতে লজ্জা পাবে না : তথ্যমন্ত্রী

619

মিরর বাংলাদেশ: তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, হাইকোর্ট ‘জয় বাংলা’ জাতীয় স্লোগান হিসেবে ঘোষণা করে রায় দিয়েছেন। সুতরাং এটি দলীয় কোনো স্লোগান নয়। আশা করি বিএনপি এখন থেকে জয় বাংলা স্লোগান দিতে লজ্জা পাবে না। আদালতের রায় অনুযায়ী বিএনপিরও ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া উচিৎ।
গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘হাইকোর্ট জয় বাংলাকে জাতীয় স্লোগান হিসেবে গ্রহণের জন্য রায় দিয়েছেন। সবাই যেন জয় বাংলা স্লোগান দেয়। এ রায়কে স্বাগত জানাই। এখন জয় বাংলা স্লোগান দিতে যাদের লজ্জা লাগে হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী বিএনপিসহ তাদের জয় বাংলা ¯েøাগান দেওয়া উচিত। দেশের স্বাধীনতার প্রতি সম্মান রেখে, সবক্ষেত্রেই আমাদের স্লোগান ছিল জয় বাংলা। জয় বাংলা কোনো দলের ¯স্লোগান নয়, জয় বাংলা মুক্তিযুদ্ধের স্লোগান।’
করোনাভাইরাস নিয়ে বিএনপি রাজনীতি শুরু করেছে মন্তব্য করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিএনপির উচিত ছিল করোনাভাইরাস নিয়ে রাজনীতি না করে জনগণের পাশে দাঁড়ানো। এটি একটি বৈশ্বিক দুর্যোগ। এটি শুধুমাত্র বাংলাদেশের ক্ষেত্রে নয়, বিশ্বব্যাপী দুর্যোগ। করোনাভাইরাসের কারণে পৃথিবীব্যাপী বিমান চলাচল সংকুচিত করা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউস থেকে পারত পক্ষে বের হচ্ছেন না। এভাবে বিশ্ব নেতারা তাদের কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত করছেন। যারা জনগণের জন্য রাজনীতি করে এই বৈশ্বিক দুর্যোগে তাদের উচিত জনগণের পাশে দাঁড়ানো।
তিনি বলেন, বিএনপি করোনাভাইরাস নিয়ে রাজনীতি শুরু করেছে। সবকিছুর মধ্যে রাজনীতি খোঁজা বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সোমবার যে বক্তব্য দিয়েছেন তা করোনাভাইরাস নিয়ে জনগণের সঙ্গে মশকরা করার শামিল। জনগণের জন্য যদি তারা রাজনীতি করেন, দয়া করে করোনাভাইরাস নিয়ে রাজনীতি না করাই ভালো। বৈশ্বিক এই দুর্যোগ মোকাবেলায় দলমত নির্বিশেষে দেশের জনগণের জন্য এক সঙ্গে কাজ করতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
খালেদা জিয়ার মুক্তির আবেদন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারা জনগণের কথা ভাবেন না বিধায় বিএনপির রাজনীতিটাও খলেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের মধ্যে আটকে আছে। তাদের নেত্রীর স্বজনরাও তাকে নিয়েই চিন্তা করছেন, অন্য কাউকে নিয়ে চিন্তা করছে না।
তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী পালনের জন্য দেশবাসীর পক্ষ থেকে ব্যাপক কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী জনস্বার্থের কথা চিন্তা করে সেই কর্মসূচিগুলো সংকুচিত করেছেন। কোন কর্মসূচি বাতিল করা হয়নি। বর্তমান বিশ্বের প্রেক্ষাপটে এবং বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ার পর এই অনুষ্ঠানগুলো পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্বনেতারা মুজিব বর্ষের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার সম্মতি দিয়েছিলেন এবং নিশ্চিত করেছিলেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ মোদির সফর নিশ্চিত করে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। যেদিন মুজিব বর্ষ উদযাপনে জাতীয় কমিটি বেশি জনসমাগম হওয়া অনুষ্ঠান আপাতত পরিহার করা হলো বলে ঘোষণা দিয়েছিল, সেদিনও ভারতের সরকারের পক্ষ থেকে মোদির সফর নিয়ে প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছিল।
করোনাভাইরান নিয়ে কোন ধরনের আতঙ্ক না ছাড়াতে মিডিয়া গুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী।##