বিলাসবহুল আড়াই হাজার গাড়ির তথ্য দুদকে

649

মিরর বাংলাদেশ: ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রায় আড়াই হাজার বিলাসবহুল গাড়ির তথ্য দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হাতে জমা দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। এ সব গাড়ি ক্রয়ে কোনো অনিয়ম বা অবৈধ সম্পদ অর্জনের মাধ্যমে সেগুলো কেনা হয়েছে কিনা দুদক খতিয়ে দেখবে।

সম্প্রতি দুই দফায় দুদকের হাতে বিআরটিএ’র পক্ষ থেকে বিলাসবহুল এ সব গাড়ির তালিকা দেওয়া হয়।

দুদক সূত্রে জানা যায়, প্রথমে গত বছরের সেপ্টেম্বরে ২৫০০ সিসি বা তদূর্ধ্ব সিসির গাড়িগুলোর তথ্য চায় দুদক। কিন্তু তখন তথ্য না দেওয়ায় ফের অক্টোবরে বিআরটিএকে চিঠি দেয় কমিশন।

দুদকের চিঠিতে বলা হয়, আড়াই হাজার বা তার বেশি সিসি গাড়ির ব্র্যান্ডের নাম, গাড়ির মালিকের নাম ও ঠিকানা, ইঞ্জিন ও চেসিস নাম্বার,মডেল ও আমদানির তারিখ, গাড়ির নিবন্ধন নম্বর ও তারিখ, গাড়ির দাম ও ভ্যাটসহ অন্যান্য ট্যাক্সের তথ্য দুদককে দিতে বলা হয়। তারই পরিপ্রেক্ষিতে বিআরটিএ সম্প্রতি দুদককে নিবন্ধনভুক্ত বিলাসবহুল গাড়ির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিয়েছে। বিলাসবহুল গাড়ি আমদানিতে দুর্নীতি হয়েছে কিনা এবং গাড়ি মালিকদের আয়-ব্যয়ের সঙ্গতি আছে কিনা সেটা খতিয়ে দেখতেই এসব তথ্য নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এর আগে, দুর্নীতি দমন কমিশনের দুদকের গোয়েন্দা ইউনিটের কাছে অভিযোগ আসে মূল্য কম ঘোষণা দিয়ে খালাস হচ্ছে বিলাসবহুল গাড়ি। আমদানি করা গাড়ির প্রকৃত মূল্য পরিশোধ করা হয় হুন্ডির মাধ্যমে। আর এসবে মাধ্যমে দুর্নীতি করে গাড়িগুলো ক্রয় করা হচ্ছে। এমনকি অনেক বিলাসবহুল গাড়ি মালিকের বিরুদ্ধেও রয়েছে শুল্ক ফাঁকিসহ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ। যার সূত্র ধরে কমিশন একটি অনুসন্ধান টিম গঠন করে আর অনুসন্ধানের জন্যই বিআরটিএকে চিঠি দেয় কমিশন।

শুধু তাই নয়, কার্নেট ডি-প্যাসেজ সুবিধার আওতায় বিদেশ থেকে আসা বেশ কিছু বিলাসবহুল গাড়ি ভুয়া রেকর্ডপত্রের ভিত্তিতে বিআরটিএতে নিবন্ধন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ আসে। কার্নেট ডি-প্যাসেজ এমন একটি দলিল, যা একজনকে গাড়িসহ তার নিজ দেশ থেকে আন্তর্জাতিক সীমানা অতিক্রমের অনুমতি দেয় এবং এতে শুল্ক এড়ানো যায়। মূলত এটি একটি প্রতিশ্রুতি যে একজন নিজ দেশের বাইরে যাওয়ার সময় গাড়িটি সঙ্গে করে নিয়ে যাবেন। অন্যথায় বড় ধরনের দণ্ডের ঝুঁকি থাকে।

আর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চাহিদা অনুযায়ী গেল পাঁচ বছরে নিবন্ধন হওয়া ২ হাজার ৪৪০টি বিলাসবহুল গাড়ির তথ্য দিয়েছে বিআরটিএ। এসব গাড়ির ৭০ ভাগ মালিক শিল্পপতি ও ব্যবসায়ী আর ৩০ ভাগ গাড়ির মালিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্তাব্যক্তি।

সম্প্রতি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা তারেকুজ্জামান রাজিবের বিলাসবহুল একটি গাড়ি জব্দ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ফলে কমিশন সূত্রে জানা গেছে, অবৈধ সম্পদের মাধ্যমে যেসব বিলাসবহুল গাড়ির তথ্য পাওয়া যাবে সেটার সত্যতা মিললেই কমিশন গাড়িগুলো জব্দ করবে। এমনকি গাড়ি মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেও কার্পণ্য করবে না কমিশন।

বিলাসবহুল গাড়ির তথ্যের বিষয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) পরিচালক (অপারেশন) শীতাংশু শেখর বিশ্বাস সারাবাংলাকে বলেন, ‘বিলাসবহুল গাড়িগুলোর বিষয়ে কোনো অসঙ্গতি থাকলে দুদক সেটি নিয়ে কাজ করবে। আমাদের কাছে তালিকা চেয়েছিল, আমরা সেই তালিকা দিয়েছি।’

এদিকে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বিষয়টি সম্পর্কে বলেন, ‘দুদকের নজরদারিতে বিষয়টি আনার জন্য ধন্যবাদ। আমরা রাস্তায় হরহামেশায় দেখি বিলাসবহুল গাড়ি চলছে কিন্তু এগুলোর মালিক কারা সেটা রাষ্ট্রের জানা প্রয়োজন। আসলে এগুলোতে সরকার ট্যাক্স থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কিনা কিংবা অবৈধ সম্পদের মাধ্যমে এগুলো কেনা হচ্ছে কিনা সেটাও রাষ্ট্রকে জানতে হবে। তাই দুদকের উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।’

এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার (অনুসন্ধান) ড. মোজাম্মেল হক খান বলেন, ‘আমরা এখন বিআরটিএ থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই বাছাই করে দেখব। এখানে কোনো অসঙ্গতি পেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকি কোন গাড়ি মালিকের তথ্যে গরমিল পেলে তাদের সম্পদের হিসাবও অনুসন্ধান করা হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’