বীরত্বপূর্ণ মেয়েদের বরণে প্রস্তুত বাংলাদেশ

18

মিরর বাংলাদেশ :

সাফের আগের পাঁচ আসরে মাত্র একটিতে ফাইনালে খেলেছিল বাংলাদেশ। নেপালের সে অভিজ্ঞতা ছিল চারবারের। ‘হিমালয়কন্যা’ নেপালের সঙ্গে এর আগে আট সাক্ষাতে একবারের জন্যও জয়ের মুখ দেখেনি সাবিনা-কৃষ্ণারা। তাদের বিপক্ষে, তাদের মাটিতেই কিনা অবিশ্বাস্য এক জয় ছিনিয়ে এনেছেন তারা। মিটিয়েছেন ট্রফি জয়ের ক্ষুধা। গর্বিত করেছেন পুরো জাতিকে, ভাসিয়েছেন আনন্দে। সেই বীরত্বপূর্ণ মেয়েরা দেশ ফিরছেন। বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে করে ঢাকায় পা রাখবে নারী দল। তাদের ঘরে ফেরা রাঙাতে প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ। শিরোপা উদ্‌যাপনে ছাদখোলা বাসের ব্যবস্থা করছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল।

প্রায় দেড় যুগ আগে শুরু হওয়া বাংলাদেশের নারী ফুটবল একটু একটু করে এগিয়ে এখন চারদিকে ডানা মেলে উড়ে বেড়াচ্ছে। কাঠমান্ডুর আকাশে সেটি ডানা মেলে উৎসবের রেণু ছড়িয়ে-ছিটিয়ে দেয়। নেপালের দশরথ স্টেডিয়াম বাংলাদেশের জন্য এখন বেশ পয়মন্ত বলা যায়। ইতিহাসের পাতায় আলাদা করে লেখাও থাকবে। ছেলেরা এই ভেন্যুতে ১৯৯৯ সালে সাফ গেমসে (এসএ গেমস) স্বাগতিক নেপালকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো সোনার পদক জিতেছিল। আলফাজ আহমেদের গোলে স্বাগতিক দর্শকদের স্তব্ধ করে এসেছিল পদক। এবার মেয়েরা ২৩ বছর পর লাল-সবুজ পতাকা উড়ায় সেখানেই। মেয়েদের ফুটবলে বয়সভিত্তিক পর্যায়ে সাফল্য এলেও জাতীয় দল সেভাবে কোনোকিছু করে দেখাতে পারছিল না। সবার দৃষ্টি ছিল তাই কাঠমান্ডুর আসরে। আশা ছিল, কিছু একটা করে দেখাবে বাংলাদেশ। গ্রুপ পর্যায়ের ম্যাচ থেকে নকআউট- সবক’টিতেই লাল-সবুজ দল আধিপত্য দেখিয়েছে। অপরাজিত থেকে হয়েছে চ্যাম্পিয়ন! বাংলাদেশ সব বিভাগে দেখিয়েছে মুন্সিয়ানা। পরিপক্কতা। গোল হজম করে হতোদ্যম হয়নি। সব বাধা পেরিয়ে মাঠের লড়াইয়ে হয়েছে সফল। গ্রুপে যখন পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ভারতকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিলো বাংলাদেশ, তখনই আঁচ করা গিয়েছিল বহুদূর যাবেন সাবিনা খাতুনরা। সেমিফাইনালে ভুটানকে ৮ গোলে হারানোর পর ফাইনাল নিয়ে দুশ্চিন্তা ছিল। কারণ প্রতিপক্ষ স্বাগতিক নেপাল। কিন্তু দশরথ স্টেডিয়ামে বৃষ্টিসিক্ত মাঠে সব আশঙ্কা উড়িয়ে শিরোপা নিশ্চিত করে মাঠ ছেড়েছে। গ্যালারিতে থাকা স্বাগতিকদের প্রায় ১৫ হাজার দর্শককে স্তব্ধ করে দিয়েছে। বললে ভুল হবে না কঠিন পরিশ্রমের ফসল ঘরে তুলেছে বাংলাদেশ।  পরিশ্রমের ফসল ঘুরে তুলে নেচে-গেয়ে রাতটা উদযাপন করেছেন মেয়েরা। গতকাল দিনঘর ঘুরে বেড়ান সানজিদা-কৃষ্ণারা। সন্ধ্যায় নেপাল হাইকমিশনের দাওয়াতে অংশ নেন। দেশে ফেরার তর সইছে না সাবিনাদের। মুঠোফোনে শিরোপা জয়ের উৎসবটা কেমন হচ্ছে- জানতে চাইলে অধিনায়ক সাবিনা খাতুন বলেন, ‘দেশে ফেরার পরই আসল উৎসব শুরু হবে। আপাতত সবাই দেশে ফেরার অপেক্ষায়। তবে উৎসব তো মাঠ থেকেই শুরু হয়েছে, শেষ বাঁশি বাজার পর।’ ম্যাচে শেষ বাঁশি বাজার পর জাতীয় পতাকা হাতে উল্লাস করেন মেয়েরা। কেউ কেউ একটু নেচেও নিয়েছেন।  টিম বাসে ওঠার পর উৎসবের মেজাজ আরও রঙিন হয়েছে। মারিয়া মান্দা বাসে উল্লাসের একটি ভিডিও পোস্ট করেন। সেখান দেখা যায়, বিজয়সূচক ‘ভি’ চিহ্ন দেখিয়ে চিৎকার-চেঁচামেচিতে গোটা বাস মুখরিত করে রাখেন খেলোয়াড়রা। সকালে আরও একটি ভিডিও পোস্ট করেন এই মিডফিল্ডার। সেটিও আনন্দ-উৎসবের ভিডিও। ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটার ডোয়াইন ব্রাভোর ‘চ্যাম্পিয়ন’ গানের তালে সুর মিলিয়ে নেচেছেন তিন ফুটবলার। আজ দেশে ফিরবে নারী দল। তখন উৎসবটা যে পূর্ণতা পাবে- তা বলাই বাহুল্য।