লিবিয়ার মাটিতেই চিরশয্যা ২৬ বাংলাদেশির!

294

মিরর বাংলাদেশ : নিজ জন্মভূমির মাটিতে নয়, হাজার মাইল দূরে উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়ায় অপহরণকারীদের গুলিতে মারা যাওয়া ২৬ জন বাংলাদেশির চিরশয্যা হতে যাচ্ছে সেখানেই। হতভাগ্য এসব বাংলাদেশিদের লাশ মিজদাতেই দাফন করা হবে বলে নিশ্চিত করেছে লিবিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের দূতাবাসের একজন কর্মকর্তা।

শনিবার (৩০ মে) বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনের এ কথা জানানো হয়।
দূতাবাসের শ্রম বিষয়ক কাউন্সিলর অশরাফুল ইসলাম জানান, নিহতদের পরিবারের সাথে আলোচনার মাধ্যমে ঘটনাস্থল মিজদা শহরেই লাশগুলো দাফনের প্রক্রিয়া চলছে।
আশরাফুল ইসলাম বলেন, “লাশগুলো সেখানে (মিজদায়) দাফন করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। কাজেই এটা মেনে নিতেই হবে।”
তিনি জানান ঘটনাস্থল মিজদার একটি হাসপাতালে বর্তমানে লাশগুলো রয়েছে।
“মিজদা খুবই ছোট একটি অনুন্নত শহর, সেখানে লাশগুলো সংরক্ষণের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা নেই।”
এছাড়া যুদ্ধকবলিত এলাকা হওয়ায় এবং লিবিয়ার জাতিসংঘ সমর্থিত সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরের এলাকা হওয়ায় রাজধানী ত্রিপোলির সাথে মিজদা শহরের যোগাযোগের ব্যবস্থাও বেশ খারাপ বলে জানান আশরাফুল ইসলাম।
আর বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে সব ধরণের আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল বন্ধ থাকায় লাশগুলো মিজদা শহর থেকে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
“এসব কারণে লাশ হস্তান্তর করার বা লাশ বাংলাদেশে পাঠানোর কোনো সুযোগ আমরা দেখছি না। তাই আমরা লাশগুলো দাফন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং তাদের পরিবারের সাথে কথাবার্তা বলছি।”

আশরাফুল ইসলাম আশা প্রকাশ করেন, আজ শনিবার (৩০ মে) থেকেই লাশগুলো দাফনের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২৮ মে) লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপলি থেকে ১৮০ কিলোমিটার দক্ষিণের মিজদা অঞ্চলে সংঘবদ্ধ অপহরণকারীদের স্বজনদের গুলিতে ২৬ জন বাংলাদেশি নিহত হন। আহত হন আরো ১১ জন বাংলাদেশি।
তারা সবাই অবৈধভাবে লিবিয়া হয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইটালি যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন।
অবৈধভাবে লিবিয়ার বেনগাজি বন্দরে পৌঁছে কয়েকমাস গোপনে ছিলেন এই অভিবাসন প্রত্যাশীরা।
এই মাসের মাঝামাঝি সময়ে বেনগাজি থেকে উপকূলবর্তী যুওয়ারা অঞ্চলে যাওয়ার পথে অপহরণকারীদের কবলে পড়েন তারা।
এরপর ২৮ মে স্থানীয় সময় রাত পৌণে ৯টার দিকে অপহরণকারীদের গুলিতে ২৬ জন বাংলাদেশিসহ মোট ৩০ জন মারা যায় বলে জানায় লিবিয়ার জাতিসংঘ সমর্থিত সরকার।