শুধু মাত্র সওয়াবের প্রত্যাশায় নারায়ণগঞ্জে বিনা মুল্যে ২৬ লাশ দাফন ও সৎকার করেছে ‘এহসান পরিবার’

601

ছবি : নারায়ণগঞ্জে বিনা মুল্যে লাশ দাফন করে চলছে স্বেচ্ছা সেবী সংগঠন এহসান পরিবার

মিরর প্রতিনিধি নারায়ণগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জে করোনা পরিস্থিতিতে কেউ লাশ ধরছেনা। ঠিক সেই সময় লাশের গোসল, জানাযা দাফনকাফন এগিয়েএলেন কিছু লোক। এসেই মৃতের পরিবারকে বললেন, “আমাদেরকে লাশ বুঝিয়ে দিন। হোক সে করোনা রোগী বা উপসর্গ মৃত। গোসল থেকে শুরু কওে জানাযা, দাফন,কাফন সব আমরা করে দেব। কোন বিনিময় দিতে চাইলেআমরা নেই। বিনিময় আমার আল্লাহর কাছ থেকে নিয়ে নিব । এভাবেই ‘এহসান পরিবার’ নামের একটিঅরাজনৈতিক সংগঠন করোনা পরিস্থিতিতে নারায়নগঞ্জে এ পর্যন্ত ২৬ টি লাশ দাফন করেছে। এর মধ্যে একজন হিন্দু ব্যক্তি সৎকারও করেছেন সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীরা। ইতোমধ্যে “এহসানপরিবার”নামেএকটি ফেসবুকপ্যাজ জেলায় ব্যাপক জনপ্রিয়হয়ে উঠেছে। এর আগে সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীররা করোনারপ্রথম থেকেই শহরের ভাসমানদেও রান্না করা খাবার বিতরণ, দুস্থ ও মধ্যবিত্তদেরমধ্যে আর্থিক অনুদান ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণসহ বিনামূল্যে শিশুখাদ্য দুধ পৌছে দিচ্ছে যা এখনো চলমান। তাদের ফেসবুকে দেখা যায়, মানুষের কল্যাণে নানা স্বেচ্ছা কর্মের ভিডিওফুটেজ ওছবি।
সংগঠনের জিম্মাদার নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ি মুক্তিযোদ্ধার সন্তান আনোয়ার হোসেন গতকালবৃহস্পতিবার জানান, নারায়ণগঞ্জে করোনা পরিস্থিতির প্রথম দিকে মার্চ মাসে“এহসানপরিবার”নামে একটি স্বেচ্ছসেবী সংগঠন করে আমরা প্রায় ১১ দিনযাবত জেলায় ভাসমানদের মধ্যে ৩শ প্যাকেট করা রান্না খাবার বিতরণ করেছি। আমরা কিছু তাবলীগ জামাতের সাথীসহ নানাসংগঠনের পেশাজীবি ও ব্যবসায়িরা নিজেরাই অুনদান দিয়ে সংগঠন কার্যক্রম শুরু করি। এরই মধ্যে জেলায় করোনায় মারা গেলে মানুষ লাশ ধরতে এগিয়ে আসা বন্ধ করে দেয়। এই পরিস্থিতিতে কেউ করোনায়সহ নানা ব্যাধিতে মারা গেলে বিনা পারিশ্রমিকে লাশের সকল কর্ম সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেই। সেই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার ৭ মে পর্যন্ত পরিবারের সদস্যরা ২৬ টিলাশ কবরস্থ করে। এর মধ্যে একজন হিন্দুও রয়েছে। তার সৎকারের ব্যবস্থা করি ।
তিনি জানান, আমরা এ পর্যন্ত যে লাশগুলো দাফন করেছি তানি¤েœ দেয়া হলো,মরহুম মজিবুর রহমান চুন্নু, বন্দর উপজেলা,হুময়ুনএর বোন, আমলাপাড়া,আজিজুল হক(৮০),আমলাপাড়া শফিউল্লাহ(৬৫)আফাজনগর,ফতুল্লা,জালালউদ্দিন(৫৫),মাসদাইর, ফতুল্লা,মফিজুর রহমান, মাসদাইর, ফতুল্লা,আয়শা আক্তার, জামতলা, বাদল চন্দ্র, আমলাপাড়া,কোহিনূর বেগম, গাইনী ডাক্তার মিনার শিকদারের মা করোনা রোগী,মোনায়ারা বেগম(৫৭), ইসদাইর, ফতুল্লা,আব্দুলমালেক(৬৫),আফাজনগর,ফতুল্লা আসাদ(৫৫)হাসেনপুর,সোনারগাঁ,সোলেমান(৬৫)খানপুর, শহর,হুময়ান আহমেদ, আমলাপাড়া,মো:শুক্কুর আলী মাতব্বর, কায়েমপুর, ফতুল্লা,মাওলানা শামসুলআলম(৮০),বন্দর,ইব্রাহীম মোল্লা, রূপগঞ্জ,মো:সেলিম, ইসদাইর, ফতুল্লা,মাওলানা মকবুল হোসেন জিহাদী, উত্তর মাসদাইর, ফতুল্লা নূরুল ইসলাম(৮৫), ইসদাইর ফতুল্লা,মামুন পাইকের মা, মাসদাইর কবরস্থান, ফতুল্লা, আক্তার হোসেন, শাসনগাও,ডাক্তার এমদাদুলহক, কেরানীগঞ্জ, আবুল হাশেম(৬৫) মাসদাইর, ফতুল্লা, অজ্ঞাত পশ্চিমমাসদাইর ও রমজানআলী, ফতুল্লা পৌষাপুকুরপাড়।