সশস্ত্র বাহিনীকে আরও উন্নত-প্রশিক্ষিত সমৃদ্ধশালী করার পদক্ষেপ নিয়েছি : প্রধানমন্ত্রী

129
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (ফাইল ছবি)

মিরর বাংলাদেশ : কখনও যদি বাংলাদেশে বহিঃশত্রæর আক্রমণ হয়, তা যথাযথভাবে প্রতিরোধ করতে সশস্ত্র বাহিনীকে সব সময় প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘রাসেলের আকাক্সক্ষা ছিল সামরিক অফিসার হবে, হতে পারেনি। আমি সেনাবাহিনী প্রধান ও সদস্যদের ধন্যবাদ জানাই, এই সেনানিবাসের নাম শেখ রাসেল সেনানিবাস রাখা হয়েছে। তার আকাক্সক্ষা পূরণ না হলেও অন্তত রাসেলের নামটা সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুক্ত থাকল।’
মঙ্গলবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে শরিয়তপুরের জাজিরায় ‘শেখ রাসেল সেনানিবাস’ এর উদ্বোধনকালে তিনি এই নির্দেশনা দেন। এসময় শেখ রাসেল সেনানিবাস প্রান্তে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।
নতুন সেনানিবাসটির নাম ‘শেখ রাসেল সেনানিবাস’ রাখায় সন্তোষ প্রকাশ করে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমার দুই ভাইই তো আসলে সেনাবাহিনীর সদস্য ছিল (ক্যাপ্টেন শেখ কামাল, লেফটেন্যান্ট শেখ জামাল)। … সবার ছোট রাসেল তাকে আমরা হারিয়েছি। রাসেলের আকাক্সক্ষা ছিল সামরিক অফিসার হবে, হতে পারেনি। আমি সেনাবাহিনী প্রধান ও সদস্যদের ধন্যবাদ জানাই এই সেনানিবাসের নাম শেখ রাসেল সেনানিবাস রাখা হয়েছে সেজন্য।’
স্বাধীনতা উত্তর সময়ে যুদ্ধ-বিধ্বস্ত অর্থনীতির ওপর দাঁড়িয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব দেশের প্রতিকূলতার মাঝেও একটি উন্নত ও পেশাদার সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলার লক্ষ্যে জাতির পিতা বলিষ্ঠ ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন তার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের মেয়াদে সেনাবাহিনীর উন্নয়নে নানামুখী পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।
মিথ্যা অপবাদ দিয়ে বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন বন্ধ করার প্রসঙ্গ পুর্নব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেটা আমি চ্যালেঞ্জ হিসাবে গ্রহণ করি এবং তাদের বলি এটা প্রমাণ করতে হবে। কিন্তু তারা তা প্রমাণ করতে পারেনি।’
কানাডার আদালতে মামলা পরবর্তী সময়ে দুর্নীতির অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘কাজেই আমি সিদ্ধান্ত নেই। কারও অর্থ না, যেহেতু মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে এর জবাব আমরা দেব, পদ্মা সেতু নিজস্ব অর্থায়নে করে। এটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। অনেকেই ভেবেছিল এটা আমরা করতে পারব না। কিন্তু আমি জানি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ৭ মার্চের ভাষণে তার যে কথাটা বলে গেছেন বাঙালিদের সম্পর্কে, যে কেউ দাবায়ে রাখতে পারবা না। বাঙালিকে কেউ দাবায়ে রাখতে পারে না, পারবে না। আমরা যদি ইচ্ছা করি অসাধ্য সাধন করতে পারি। সেটা নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জন করে প্রমাণ করেছি। আজ পদ্মা সেতুও আমরা নির্মাণ করেছি এবং তার কাজও প্রায় সম্পন্ন।’
জাতির কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তাদের সাহসী ভূমিকা এবং তাদের সমর্থন পেয়েছি বলেই এটা করা সম্ভব হয়েছে। তাছাড়া বন্ধুপ্রতিম দেশও আমাদের সমর্থন দিয়েছে।’
‘শেখ রাসেল সেনানিবাস’ এর গুরুত্ব তুলে ধরে সরকার প্রধান বলেন, ‘এইটুকু বলবো শুধু এই নির্মাণ নয়, এই সেতুর বিধানও একান্তভাবে প্রয়োজন। আর সেই নিরাপত্তা বিধানের জন্যই আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। যেহেতু দ্রæত শুরু হয়ে যাবে যান চলাচল। কাজেই সেতুর নিরাপত্তা একান্ত ভাবে অপরিহার্য। এ সেতু নির্মাণের ফলে আমি মনে করি আমাদের জিডিপিতে অন্তত আরও ১ ভাগ থেকে ২ ভাগ প্রবৃদ্ধি সংযুক্ত হবে। অর্থাৎ উন্নয়নের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যেতে পারবো সেটা আমি বিশ্বাস করি।’
নতুন সেনানিবাসের কারণে মানুষ উপকৃত হবে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘পদ্মা সেতুর সার্বিক নিরাপত্তা বিধান এবং সেনানিবাসের মাধ্যমে এ অঞ্চলের মানুষেরও সার্বিক উন্নয়ন হবে। কারণ আমাদের সশস্ত্র বাহিনী যেখানেই থাকুক, যেখানেই তাদের সেনানিবাস আছে সঙ্গে সঙ্গে ওই এলাকাগুলোতেও কিন্তু অনেক উন্নতি হয়। সেখানে স্কুল-কলেজ, চিকিৎসা কেন্দ্র বা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে ওঠে। আশাপাশের মানুষগুলোর আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে অনেক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়। তারাও লাভবান হয়।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরও বলেন, “আমরা চাই আমাদের দেশ এগিয়ে যাবে, দেশ আরও উন্নত হবে। আমরা কারো সঙ্গে যুদ্ধ করতে চাই না, যুদ্ধ আমরা করবো না, জাতির পিতা আমাদের যে পররাষ্ট্র নীতি শিখিয়ে গেছেন ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়’, আমরা সেই নীতিতে বিশ্বাস করি। কিন্তু আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে। কখনও যদি বহিঃশত্রæর আক্রমণ হয় আমরা যেন তা যথাযথভাবে প্রতিরোধ করতে পারি এবং আমরা যেন আমাদের দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে পারি।’
শক্তিশালী সেনাবাহিনী গড়তে সরকারের নেওয়া কার্যক্রমের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সশস্ত্র বাহিনীকে আমাদের আরও উন্নত-প্রশিক্ষিত, সমৃদ্ধশালী করার পদক্ষেপ নিয়েছি। আমি মনে করি আমাদের সশ্রস্ত্র বাহিনীর প্রজ্ঞা, পেশাগত দক্ষতা, কর্তব্য-নিষ্ঠা দিয়ে আমাদের দেশের সুনাম বৃদ্ধি করবে।’
প্রধানমন্ত্রী জানান, ফোর্সেস গোল ২০৩০’ এর আলোকে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে ২০১৩ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর তারিখে ৯৯ কম্পোজিট ব্রিগেড প্রতিষ্ঠা লাভ করে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই এই ব্রিগেড শেখ রাসেল সেনানিবাসের মাওয়া এবং জাজিরা প্রান্তে স্থানান্তরিত হয়ে স্বপ্নের পদ্মা সেতু প্রকল্পের নিরাপত্তা বিধানে সফলভাবে আভিযানিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পদ্মা সেতুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এই সেনানিবাসের ৯৯ কম্পোজিট ব্রিগেড ও অধীনস্থ ইউনিটগুলো নিরলসভাবে পরিশ্রম করে তাদের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। শেখ রাসেল সেনানিবাস একটি পূর্ণাঙ্গ সেনানিবাস হিসেবে পরিণত হয়েছে, যেখানে সেনাবাহিনীর সদস্যদের জন্য সব ধরনের প্রশিক্ষণ এবং প্রশাসনিক সুবিধা তৈরি করা হয়েছে