সিলেটের আলোকবর্তিকা মরহুম মদরিস মিয়া মাষ্টার আজও মানুষের কাছে শ্রদ্ধাভাজন স্মরনীয়

227

  ।। এইচ এম আশরাফ আহমদ  ।।

সিলেটের সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুরের একজন নিবেদিন প্রাণ, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম এডভাইজার,৫২ ভাষা আন্দোলনের বীর সেনানী , মানুষ গড়ার কারিগর, সর্বজন শ্রদ্ধেয় মরহুম মদরিস মিয়া মাষ্টার আজও মানুষের কাছে স্মরনীয় হয়ে আছেন। জীবদ্দশায় তার নি:স্বার্থ অবদানের কথা আজও জগন্নাথপুরের মানুষের মুখে মুখে। নানা গুনের গুনাম্বিত মসরিস মাষ্টারের অবদানের কথা বলে শেষ করা যাবে না। তিনি দেশের অন্যতম পাটকল নারায়ণগঞ্জের আদমজী জুট মিলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।

(এইচ এম আশরাফ  আহমদ, মরহম মদরিস মাষ্টারের সুযোগ্য সন্তান)

মদরিস মিয়া মাষ্টার জীবদ্দাশয় ৪৫ বছর নিজেকে শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত রাখেন। অসংখ্য মানুষের মাঝে তিনি ছড়িয়ে দেন শিক্ষার আলো। মানুষ গড়ার কারিগর মদরিস মাষ্টারের হাতে গড়া শিক্ষার্থীরা আজ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্ব স্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হয়ে আছেন। মসজিদ,মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন সমাজসেবা কাজে জড়িত ছিলেন মদরিস মিয়া মাষ্টার । তাকে সমাজের আলোকবর্তিকা বলতেন সাধারন মানুষ।
মদরিস মিয়া মাষ্টার তার গুনে, জ্ঞানে সবার কাছে ছিলেন প্রিয়জন। সবাই তাকে অনেক সম্মান করতেন। তিনি ছিলেন বিশ্বস্থ। তার ব্যবহার ছিলো অমায়িক। সবার কাছে তিনি প্রিয় মুখ এবং পরিচিত ছিলেন। জগন্নাথপুরের বৃহত্তর পাটলি গ্রামের মোল্লা বাড়িতে জন্ম তার।
এদিকে মরহুম মদরিস মিয়া মাষ্টার শুধু সাধারন মানুষের কাছেই প্রিয় ছিলেন না। তিনি ছিলেন আওয়ামীলীগের প্রবীন রাজনীতিবিদ সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী আবদুস সামাদ আজাদের অত্যন্ত প্রিয়ভাজন ও বিশ্বস্থ লোক । আবদুস সামাদ আজাদ তার জীবদ্দশায় অত্যন্ত ভালোবাসতেন মদরিস মাষ্টারকে।
আবদুস সামাদ আজাদের গ্রামের বাড়ি বুরাখালি গ্রামের স্কুলে মদরিস মাষ্টার শিক্ষকতা করা কালে আবদুস সামাদ আজাদের বাড়িতেই লজিং থাকতেন।
আবদুস সামাদ আজাদ যখন প্রথম পররাষ্ট্র মন্ত্রী হন তখন তার প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর ছিলো জগন্নাথপুরে। তিনি হেলিকপ্টার থেকে নামার পর মদরিস মাষ্টারই প্রথম তাকে অভ্যথ্যনা জানান। সে সময় আবদুস সামাদ আজাদের রাষ্ট্রীয় সফরের অনুষ্ঠানে দাওয়াত পান মদরিস মাষ্টার। তখন যোগাযোগের মাধ্যম ছিল পোষ্ট অফিস । চিঠি আর পোষ্ট কার্ডের মাধ্যমে দাওয়াত দেয়া হতো।
আবদুস সমাদ আজাদ পোষ্ট কার্ডের মাধ্যমে সেই অনুষ্ঠানের দাওয়াত দেন মদরিস মাষ্টারকে। সে সময় তার বাড়ি থেকে লোক পাঠান মদরিস মাষ্টারের মোল্লা বাড়িতে । তাকে জানানো হয় পোষ্ট অফিস থেকে আবদুস সামাদ আজাদের দেয়া দাওয়াত পোষ্ট কার্ড রিসিভ করার জন্য। মদরিস মাষ্টার সে দিন পোষ্ট কার্ড রিসিভ করে অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এতেই বুঝা যায় আবদুস সামাদ আজাদ অনেক ভালোবাসতেন মদরিস মাষ্টারকে। তার কর্ম আর গুনে মানুষ মদরিস মাষ্টারকে আজও মানে প্রাণে স্বরণ করছেন।
মদরিস মাষ্টারের সন্তানরা আজ সমাজে খুবই প্রতিষ্ঠিত ও সাম্মানিত ব্যক্তি । তার আদরের সন্তান এইচ এম আশরাফ আহমদ অত্যন্ত সমান্নিত লোক। ইংল্যান্ডে পেশাগত জীবনে তিনি খুবই সফল । তিনি প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া খুবই দাপটের সাথে কাজ করে যাচ্ছেন। এছাড়া অনেক প্রতিষ্ঠানের সাথে তিনি জড়িত আছে। তাকে অত্যন্ত ভালো লোক হিসেবে সমাজের মানুষ জানেন।
মদরিস মাষ্টারের আরেক সন্তান হাজী মো: শফি আহমেদ একজন সুনামধন্য বিশিষ্ট ব্যবসায়ি ও নিবেদিত প্রাণ। কমিউনিটির বিভিন্ন কল্যাণমুলক  কার্যক্রমের সাথে জড়িত।

লেখক : এইচ এম আশরাফ আহমদ
মরহুম মদরিস মিয়া মাষ্টারের সুযোগ্য সন্তান,
যুক্তরাজ্য প্রবাসী, বিশিষ্ট সাংবাদিক