হরিরামপুরে বেড়িবাঁধে ধ্বস, হুমকির মুখে উপজেলাসহ ২টি ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম

661

মিরর প্রতিনিধি (হরিরামপুর): মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে পদ্মার বেড়িবাধে ধস নামায় উপজেলা পরিষদসহ ২টি ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম হুমকির মুখে পতিত হয়েছে।

উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ও বয়ড়া ইউনিয়ন পরিষদের পদ্মানদী তীরবর্তী কয়েকটি গ্রামের বেড়িবাধে এ ধ্বস শুরু হয়েছে।
জাবা যায়, রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের (উজানে) এবং বয়ড়া ইউনিয়নের আন্ধারমানিক,খালপাড় বয়ড়া, দড়িকান্দী, বকচর, জগন্নাথপুরের পদ্মা পাড়ের বিভিন্ন অংশের বেড়িবাধে এ ধ্বস নামছে বলে দেখা গেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রাকৃতিক ঝড় আম্ফানের পর থেকেই পদ্মায় উজানের স্রোত আর তীব্র বাতাসে ঢেউয়ের সৃষ্টি হচ্ছে। যার ফলে নদীর মাঝে ছোট ছোট চর জেগে ওঠার কারনে পদ্মানদীর স্রোত পাড়ে এসে লাগছে বলে এলাকাবাসী ধারনা করছেন।
এছাড়া বকচর, জগন্নাথপুর, রামকৃষ্ণপুর গ্রামের উজানে বাহাদুরপুর গ্রাম সহ আশপাশে বন্যার পানি বেড়ে যাবার সাথে সাথেই প্রতিবছরই ভাঙ্গনের কবলে পড়ে উক্ত এলাকা।হরিরামপুর বেড়িবাঁধ
গত কয়েক বছরে বেশ কয়েকটি গ্রাম,ফসলী জমি,সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ আশ্রয়হীন হয়ে রাস্তায়,খোলা আকাশের নিচে জীবন যাপন করেছেন কয়েকশত মানুষ। যদিও পড়ে সরকারি অনুদানে তাদের মাথা গুজার ঠাই হয়েছে। কিন্তু নিজ ভিটেমাটি হারিয়ে মূর্ছা গেছেন সকলেই।
এছাড়া সামনে বর্ষার পানি বেড়ে যাবার সাথে সাথে ভাঙ্গন শুরু হবে ফলে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন হরিরামপুর উপজেলার মানুষ। যার ফলে পদ্মানদীর কড়াল গ্রাস থেকে চির মুক্তি পেতে হরিরামপুর উপজেলা রক্ষায় গত কয়েকবছর যাবৎ আন্দোলন করে যাচ্ছেন এলাকাবাসী সহ আপামর জনতা।
যে কারণে এলাকার সুশীল সমাজের কয়েকজন। সরকার এবং মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষনের জন্য পদ্মা ভাঙ্গন থামাও হরিরামপুর বাঁচাও নামক ফেসবুক গ্রুপ পেজ খুলে প্রনিনিয়তই দাবি জানিয়ে আসছে তারা। সেই সাথে তাদের নিজ উদ্যোগে জেলা প্রশাসক, পানি উন্নয়ন বোর্ড সহ বিভিন্ন মন্ত্রনালয়, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের কাছে স্বারক লিপি (গণস্বাক্ষর সম্বলিত) দেয়াও হয়ছে।
সেই আন্দোলন কারীর মধ্যে একজন বকচর গ্রামের একজন জানান-বর্তমান সরকারের সদিচ্ছার কারণে আমরা হরিরামপুর বাসী পদ্মা ভাঙ্গন হতে কিছুটা মুক্তি পেয়েছি। পুরো হরিরামপুরে পদ্মাপাড়ের এলাকায় স্থায়ী একটা ব্যবস্থার পাশাপাশি নব নির্মিত বেড়ি বাধের রিপেয়ারীং করা খুবই প্রয়োজন।
ভাঙ্গন আতঙ্কে থাকা দড়িকান্দী গ্রামের মোঃ ফজর আলী জানান- পদ্মা নদী আমাগো (আমাদের) নিঃস্ব করে দিছে, অবশিষ্ট যা আছে, তা যদি ভেঙ্গে যায় তবে আমাগো রাস্তায় থাকতে হবে।
উল্লেখ্য যে গত ২০১৬ সালে ফ্লাড এন্ড রিভার ব্যাংক ইরোশন রিস্ক ম্যানেজমেন্ট ইনভেষ্টম্যান প্রোগ্রাম (প্রথম পর্যায়) এর আওতায় হরিরামপুর উপজেলার বামদিকের পদ্মা নদীতে ৭.০০ কিঃমিঃ, পরে ২ কিঃমি বাড়িয়ে মোট ৯.০০ কিঃমি নদী তীর সংরক্ষনমূলক কাজ করা হয় (জিও ব্যাগ ফেলে নদী শাসন করা হয়)।
এ ব্যাপারে মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মাইনুদ্দিন মুঠোফোনে এই প্রতিবেদককে জানান, আমরা হরিরামপুরের ধূলসূড়া ইউনিয়নে ইতোমধ্যে কিছু বস্তা ফেলেছি। এছাড়া রামকৃষ্ণপুর ও বয়ড়া ইউনিয়নের পদ্মায় সম্ভবত আজ কালকের মধ্যে এই ধ্বস শুরু হয়েছে। আমরা লোক পাঠাচ্ছি। সে সরেজমিনে গিয়ে রিপোর্ট দিলেই জরুরী ভিত্তিতে কাজ করবো আমরা।