হাসপাতালে ভর্তি নেয়নি, রিকশাতেই মারা গেলো প্রসূতি

662

মিরর বাংলাদেশ : চিকিৎসার অভাবে গর্ভে অনাগত সন্তান নিয়েই এক প্রসূতির করুণ মৃত্যু হয়েছে। ওই নারীর নাম সাজিয়া বেগম। তিনি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন ১৩নং ওয়ার্ডের মাসদাইর এলাকার জয়নাল বেপারী সড়কের বাসিন্দা আব্দুল জলিলের মেয়ে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেলে তার মৃত্যু হয়।

জানা গেছে, সাজিয়া ৯ মাসের অন্তঃসত্ত¡া ছিলো। প্রথমে নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় একটি ক্লিনিকে তারপর খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতাল এবং সেখান থেকে আবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কিন্তু কোথাও চিকিৎসা পায়নি এই অন্তঃসত্তা নারী। পরিবারের অভিযোগ, কোন হাসপাতালে ভর্তি করতে চায়নি বলেই বিনা চিকিৎসায় সাজিয়ার মৃত্যু হয়েছে।

সাজিয়ার বাবা আব্দুল জলিল জানান, মে মাসের ১৩ তারিখে ছিল সাজিয়ার ডেলিভারির তারিখ। সে ডা. পারুলের চিকিৎসা নিচ্ছিল। সকালে সাজিয়া পা পিছলে পরে গিয়ে অসুস্থ হয়ে যায়। দুপুর ৩ টার দিকে সাজিয়াকে তার স্বামী মো. সুমন ও পিতা আব্দুল জলিল প্রথমে স্থানীয় একটি ক্লিনিক, তার পরে খানপুর হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যান।

সেখানেও কেউ সাজিয়াকে ভর্তি করতে চায়নি। অগত্যা আবারো ফিরে আসে নারায়ণগঞ্জের খানপুরে। জোড়া পানির ট্যাংকির সামনের এক ক্লিনিকে নিয়ে যায়। কিন্তু সেখানেও তার চিকিৎসা দিতে কেউ রাজি হয়নি। পরে বাড়ি ফেরার পথে অটোরিকশাতেই সাজিয়ার মারা যায়।

এ সমগ্র ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ১৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খোরশেদ জানান, বেঁচে থাকার আশায়, নিজের সন্তানকে পৃথিবীর আলো দেখানোর সব চেষ্টা করেছিল। কিন্তু এখন তার দাফনের প্রস্তুতি চলছে।

মহামারি করোনা শুধু নিজেই মানুষ মারছে না, হরন করেছে অন্যান্য রোগে আক্রান্ত সাধারন রোগীদের প্রাণও। কোথাও রোগী নেয়া হলে করোনাভাইরাসের ভয়ে কেউ ধরেও দেখছে না। এমনকি জীবন রক্ষায় জরুরী ডায়ালাইসিস ও কেমোথেরাপিও পাচ্ছে না কেউ।

তিনি চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে বলেন, কিছু চিকিৎসকরা যেমন করোনা আক্রান্তদের জীবন বাঁচাতে নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিচ্ছে। অপর দিকে কিছু ক্ষেত্রে অবহেলাও দেখতে পাচ্ছি।a