২০০৯ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের অনেক উন্নতি করেছি : প্রধানমন্ত্রী

170

মিরর বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, প্রকৃতিই আমাদের এত চমৎকার একটি দেশ দিয়েছে। প্রাকৃতিকভাবেই আমাদের মধ্যে একটা শৈল্পিক চেতনা রয়েছে। সেই চেতনা বিকশিত হওয়া দরকার। এতে প্রজন্মের পর প্রজন্ম দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হবে এবং তাদের ভেতরের মেধাজ্ঞান বা শৈল্পিক মন বা মনন বিকশিত হবে। শুধুমাত্র ধন সম্পদের দিকে ছুটে বেড়াবে না, বা কবে কোন ব্র্যান্ড পরবে সেদিকে ছুটবে না।
রোববার সকালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনী নিয়ে নির্মিত চিত্রকর্ম (স্ক্রল পেইন্টিং) ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব: মহাজীবনের পট প্রদর্শনী’র উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর প্রান্তে যুক্ত ছিলেন।
৭৫’র পর জাতির পিতাকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার তৎকালীন স্বৈরশাসকদের কর্মকাÐের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই অপচেষ্টা পাকিস্তানিরা যেমন করেছে, ৭৫’র পর ঘাতকদের দল বা স্বাধীনতাবিরোধীরাও করেছে। কিন্তু ইতিহাস থেকে তাকে মোছা যায়নি। কারণ আমাদের কবি-শিল্পী-সাহিত্যিক লেখনির মধ্য দিয়ে অথবা তুলির আঁচড়ে কিংবা কবিতা ও গানের মাধ্যমে বিভিন্নভাবে এই নামটিকে চিরভাস্মর করে রেখেছেন।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘চিত্রকলার প্রতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একটা আকর্ষণ ছিল। এবং সেটাকে তিনি ফুটিয়ে তুলতেন। বাঙালি হিসাবে আমাদের যে শৈল্পিক মন আছে সেটাকে প্রকাশ করার জন্য তিনি কাজ করে গেছেন। শিক্ষায়-দীক্ষায় বা কোনোকিছু সৃষ্টিতে বাংলাদেশের মানুষ যে কত পারদর্শী সেটাই তিনি আমাদের স্মরণ করে দিয়ে গেছেন।’
বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘পঁচাত্তরের পর এমন একটা সময় ছিল যখন শেখ মুজিব, বঙ্গবন্ধু, ৭ই মার্চের ভাষণ বা তার নাম- সব নিষিদ্ধ ছিল। এমনকি টেলিভিশন বা অন্যকিছুতে অনেক ছবির মাঝে যদি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের একটা ছবি থাকত সেটা একটা কাগজের টুকরো দিয়ে আড়াল করে তারপর দেখানো হতো। কিন্তু ইতিহাস থেকে তো তাকে মুছে ফেলা যায় না। কিন্তু সেই মুছে ফেলার অপচেষ্টা আমরা দেখেছি ২১ বছর।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২১শে ফেব্রæয়ারি আমাদের শহিদ দিবস বা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ বা ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে আমরা হারিয়েছি। এছাড়াও রয়েছে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ। সেই মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের ইতিহাসও আমাদের জীবনে রয়েছে। সেগুলো সম্পর্কে আমাদের শিশু-কিশোর এবং প্রজন্মের পর প্রজন্মের জানা উচিত।’
তিনি বলেন, ‘২০০৯ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের অনেক উন্নতি করেছি। জীবন অনেক পাল্টে গেছে মানুষের। মানুষের সেই হতদিরদ্রতা অনেক কমে গেছে। দারিদ্র্যের হার কমাতে পেরেছি। শিক্ষা-দীক্ষা পাচ্ছে, ভালো কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হচ্ছে। গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত উন্নতি হচ্ছে- এটা ঠিক। কিন্তু উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে আমাদের অর্জনের পেছনে যাদের অবদান রয়েছে তাদের সম্পর্কে এদেশের মানুষের জানা উচিত।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি বলব, আমাদের কবি-শিল্পী-সাহিত্যিক যে যেখানে আছেন, আপনারা আপনাদের কাজ করে যাচ্ছেন, করে যাবেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা হিসেবে বলব, আমার বাবা এদেশকে ভালোবেসেছেন, মানুষকে ভালোবেসেছেন। আর সেটা আমিও তার কাছ থেকে শিখেছি। কাজেই দেশের মানুষের কল্যাণে যা যা করার সেটা যেমন করে যাব, তেমনি বাঙালি হিসেবে শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির জন্য যত রকমের সহযোগিতা দরকার অবশ্যই করব।’
তিনি আরও বলেন, ‘হ্যাঁ, প্রধানমন্ত্রী থাকাতে সুবিধা বেশি, করা যায় বেশি। তারপরও কিন্তু সবসময় আমার কাছ থেকে এই সহযোগিতাটা পাবেন। সেইটুকু আমি কথা দিতে পারি। কারণ এটাই তো আমাদের বড় সম্পদ। বিশাল সম্পদ। এই সম্পদটা যত বেশি বিকশিত হবে। ততই আমার দেশ আরও এগিয়ে যাবে।’
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, মাত্রা’র ম্যানেজিং পার্টনার শিল্পী আফজাল হোসেন, বাংলাদেশ চারুশিল্পী সংসদের সভাপতি শিল্পী জামাল আহমেদ ও স্ক্রল পেইন্টিং’র শিল্পী শাহ্জাহান আহমেদ বিকাশ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জন্মশত বার্ষিকী উদযাপন জাতীয় কমিটি বাস্তবায়নের প্রধান সমন্বয়ক ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী।
উল্লেখ্য, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বৈচিত্র্যময় ও বহুমাত্রিক জীবন নিয়ে ১৫০ ফুট দীর্ঘ শিল্পী শাহজাহান আহমেদ বিকাশের আঁকা ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব: মহাজীবনের পট’ শিরোনামে স্ক্রল পেইন্টিংটি জাতীয় জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী গ্যালারিতে প্রদর্শিত হবে। জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির সহযোগী সংস্থা ‘মাত্রা’ এর সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছে